প্রতি মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু , অসম
প্রতি
ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা,
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, অসম,
দিসপুর, গুয়াহাটি, ৬ ।
মহাশয়,
আপনাকে শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।
আপনি নিঃসন্দেহে একজন সুদক্ষ ও গতিশীল রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ সুচিন্তিত ও নির্ভুল হয়ে থাকে। কিন্তু শ্রীভূমি জেলার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আপনার শিশুসুলভ আচরন দেখে আমি স্তম্ভিত হয়েছি!
আপনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই সবকিছু আপনার নখদর্পণে থাকা বাঞ্ছনীয়। যেহেতু এটা কোনও পরিকল্পিত ঘটনা ছিলো না, তাই এখানে স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইনপুট পাওয়ার কথা নয়। সেক্ষেত্রে, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এর এডিজিপি হীরেন নাথের ব্যর্থতা বলা চলে না। ঘটনার পর পরই সম্ভবত প্রাথমিক ইনফরমেশনের ভিত্তিতেই আপনি আপনার এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। টুইটে উল্লেখ না করে ডিজিপি হরমিৎ সিং কে একশন নেওয়ার জন্য অফিসিয়াল নির্দেশ দিতে পারতেন। আপনার টুইটার পড়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার জাতীয়তাবাদী মহল প্ররোচিত ও উত্তেজিত হয়ে ওঠা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে স্যোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বাঙালির চৌদ্দ গুষ্ঠি কে গালাগাল করা হচ্ছে। এটা স্থানীয় (খিলঞ্জীয়া) জনগোষ্ঠীর পক্ষে খুবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার হিন্দু বাঙালিদের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সম্পৃক্ততার কোনো যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন কী? অথচ আপনি অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো সবকিছু না দেখার ভাণ করছেন বললেও অত্যুক্তি করা হবে না।
বিরম্বনা হচ্ছে, শ্রীভূমি জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট লীনা দোলে স্পষ্টীকরণ দিয়ে বলেছেন, এটা অসমিয়া-বাঙালির সংঘাত নয়, কিংবা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতেও এমন ঘটনা ঘটে নি। নেহাৎ মদমত্ত কয়েকজন যুবকের মধ্যে সাধারণ মারপিটের ঘটনা। স্থানীয় এস এস সি দোলের বক্তব্য এবং আপনার টুইটারে লেখা বক্তব্য একেবারে সামঞ্জস্যহীন এবং প্ররোচনামূলক।
এখন অজস্র ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওতে দেখা ও শোনা যাচ্ছে "কেলা বঙাল" বলতে। সাধারণ একটি মারপিট দু পক্ষের মধ্যেই হয়েছে। বৃদ্ধ এক বাঙালি ভদ্রলোক কে মেরেছে বলেও শোনা যাচ্ছে। শ্রীভূমি জেলার এস এস পি-র সঙ্গে টুইট করার আগে আপনি কথা বলেছেন বলেও মনে হয় না।
আমার প্রশ্ন, দশমীর বিসর্জন ২১ অক্টোবরের পরিবর্তে পরে হয়েছে কেন? বর্তমান অসমের হিন্দু বাঙালিরা ষাটের দশকের পরিস্থিতির অনেক উর্ধ্বে উঠে গেছেন। আগের মানসিকতা এখন নেই। অসমিয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি হিন্দু বাঙালির বিন্দুমাত্র বিদ্বেষ নেই। তাহলে বাঙালিদের এতোবড় একটা মানসিক যন্ত্রণার দিকে আপনি ঠেলে দিলেন কেন? ভিডিও টি এআই দিয়ে প্রস্তুত করা বলে মনে হচ্ছে না। এটা স্যোসাল মিডিয়াতে বিচরণ করছে।
আশা করি, সঠিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা বের করে আনবেন। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।
ইতি : চিত্ত পাল।
Comments
Post a Comment