আজ কোজাগরী লক্ষ্ণী পুজো
আজ কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা ৷
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""''
তপন দাস। 24 ~ 10 ~ 26
অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের আবর্তে মানুষ দিশেহারা ৷ আসুন আমরা দেবতাদের প্রকৃত স্বরূপ বোঝার
চেষ্টা করি। মানুষ যেসব কল্প
লোকের মাধ্যমে বিচিত্র সব
দেবতার সৃষ্টি করেছে তার
একটি হলো কোজাগরী লক্ষী।সভাবতঃই মনে প্রশ্ন জাগে,
দেবতা বলতে কী বোঝায় ?
দিব ধাতু থেকে দেব ৷ দীপ্ত
করণে যা উজ্জ্বল বা প্রকাশিত ,
তাই দেব বা দেবতা | আকাশ,
চন্দ্র, সূর্য, অগ্নি, বায়ু এ সব দেব ৷ হিন্দুরা যাকে দেব বলে ।
মুসলিমরা বলে আল্লা, খ্রীষ্টানরা
বলে এঞ্জেল ৷এই দেবতারা
স্বর্গে বাস করে ৷ ( যমালয়ে জীবন্তমানুষ) স্মরনীয় ৷ হিন্দুমতে দেবতারা ঠিক মানুষের
মত দেখতে ৷ স্বর্গে আবার অনেক ভাগ আছে ৷ যথা-পিতৃলোক, চন্দ্রলোক, বিদ্যুৎলোক, ব্রহ্মালোক ইত্যাদি ৷
সবচেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান হলো ব্রহ্মালোক ৷লক্ষী পৌরানিক
দেবতা | ধন-ঐশ্বর্যের দেবী ৷
আদিতে তিনি ছিলেন শোভা ও সৌন্দর্যের দেবী ৷ সম্ভবতঃ গুপ্ত রাজাদের আমলে শ্রীলক্ষীর সঙ্গে
মিশে গিয়ে দেবসত্ত্বা প্রাপ্ত হন ৷আমাদের বাংলায় বেশির ভাগ মানুষের মনে লক্ষী নামে আলদা কোন দেবী নাই । তাদের কাছে
লক্ষ্মী মানেই - খেয়ে পড়ে বাঁচার মতো আকুতি ৷এখানে গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমানও বৃহস্পতিবার
কে " লখীবার " বলে থাকেন ৷
হিন্দুরা ঐ বারে ঘটে পটে লক্ষীর পূজো করেন প্রায় প্রতি ঘরে।
কোন কোন ক্ষেত্রেস্বচ্ছল ব্যক্তিরা
মাটির মূর্তি গড়েও পূজো করেন আরম্ভর করে ৷ দূর্গা পূজার দশমীর পর যে পূর্নিমায় লক্ষীর আরাধনা করা হয়,তাকে কোজাগরী
পূর্ণিমার লক্ষীপূজো বলা
হয়। পুরাণ মতে ঐ মধ্যরাতে
দেবী স্বয়ং গৃহস্থের দুয়ারে
উপস্থিত হয়ে আশির্বাদ দেন, মুর্শিদাবাদের একটি প্রচলিত কিংবদন্তী এই যে, নবাবী আমলে জগৎ - সেঠ নাকি নবাবের কাছে আবদার করেনযে,কোজাগরীর
রাত্রে নগরে আর কোন গৃহস্থ
প্রদীপ বা কোনো কিছু আলো
জ্বেলে রাখতে পারবে না ৷
একমাত্র তাঁর গৃহেই আলো
জ্বলবে এবং সেই আলোর
পথেই লক্ষী দেবী তাঁর গৃহে
পদাপর্ণ করে তাঁকে আর্শিবাদ জানাবেন ৷ নবাব নাকি সেই
মতইঢেঁড়ি পিটিয়ে দেন ,যে জেগে থেকে তাঁর উপাসনা করবে, সেই লোক তাঁর বিশেষ আশির্বাদে
ঐশ্বর্য্য পাবে ৷"কো জাগর্ত্তি " ?
অর্থাৎ কে জেগে আছে ?এই
থেকেই দেবীর নাম "কোজাগরী " ৷ এই জন্যেই এই পূজোকে বলে "কোজাগরী পূর্ণিমা "৷
''""""""""""""""""""""""""""""""""
🙏
Comments
Post a Comment