ভোট বেলায় লাশ কোথায় ,ভোট আউট না অভিনয় ?
ভোট বেলায় লাশ কোথায়, ভয় আউট না অভিনয়?
দেবদূত ঘোষঠাকুর
একটা উপনির্বাচন বলে কথা। আর রাজ্যটা পশ্চিমবঙ্গ।
কিন্তু বৈপরিত্যটা দেখুন। একটুও 'বডি' পড়ল না! গুলি চলল না! বালতিতে, ঝোপঝাড়ে বোমা মিলল না! বোমা বানাতে গিয়ে হাত-পা উড়ল না কারো!
রাজ্যটিকে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বলে মনে হচ্ছে না। তা হলে কি ভয় আউট করিয়ে ছাড়ল রাজ্যের নতুন সরকার? নাকি আরও বেশি ভয় মানুষকে ঘরবন্দি করে রেখেছে। তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ক্ষমতা বদল বা উপনির্বাচন যাই হোক না কেন, রাজনৈতিক উত্তাপ এবং একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার কৌশলগত ট্র্যাডিশন এই এই উপনির্বাচনে কিন্তু দেখা যায়না।
আসল কথাটা হল, যাদের সব থেকে বেশি প্রতিবাদ করার কথা সেই মমতা তৃণমূল লড়াই ছেড়ে দিয়েছে। না হলে নির্বাচনের আট দিন আগে কী ভাবে ওই দলেরই প্রধান মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে বসে থাকেন? নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে এই প্রতিবেদনে লেখার সময় পর্যন্ত (৩০ সেপ্টেম্বর) একবারের জন্যও মমতা বা অভিষেক প্রচারে যাননি একবারের জন্যও। দেখা যায়নি দলের সাংসদ বা অন্য বড় নেতাদের। এটা কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন সংস্কৃতির সঙ্গে মোটেই খাপ খায়না। এই বদলে যাওয়া নির্বাচনী সংস্কৃতির কারণ কি ভয়, না অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাওয়া, না কী চরম রাজনৈতিক দখলদারি তা বোঝা যাচ্ছেনা।
বিশেষ করে এই সময়ে অভিষেক সহ মমতার দিল্লি 'পলায়ন' অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যেমন যে তৃণমূল নেত্রী এখনও পর্যন্ত ভোটযুদ্ধে 'বিনা যুদ্ধে সূচাগ্র মেদিনী' কখনও ছাড়েননি, তাঁর কেন এই শশ্চাদ অপসারণ? ঋতব্রত তৃণমূল বলতে শুরু করেছে, এটা বিজেপির সঙ্গে মমতা-
অভিষেকের 'গটআপ গেম'। নন্দীগ্রামে মমতার দল প্রার্থী তুলে নেওয়াটা এই কৌশলেই একটা অঙ্গ'।
নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তই মমতাজের কোনও দায় সেখানে নেই। নামকাওয়াস্তে তারা কংগ্রেসের প্রার্থীকে সমর্থন করছে। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রথম দিন প্রচারে নেমে জনতার তাড়া খেয়ে সেই যে ঘরে ঢুকে গিয়েছেন, আর সেই ভাবে প্রচার করতে বেরোচ্ছেন না। বামফ্রন্টের তরফে সিপিএম এবং আরএসসি দুই দল প্রার্থী দেওয়ায় বিরোধী ভোট আরও বড় হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ বামদলও তাদের ঘোরতর শত্রু বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে। ইন্ডিয়া জোট এখানে ঘেঁটে ঘ। বিজেপির সঙ্গে একমাত্র লড়াইয়ের জায়গায় আছে কংগ্রেস। তাই পুরনো খুনের মামলায় বেশ কয়েকদিন জেলে কাটাতে হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী কে। একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রচারের সুযোগ হারালেন তিনি। একেবারে শেষ মুহুর্তে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে প্রচার শুরু করতে পেরেছেন।
এই সেই নন্দীগ্রাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় বসার নীল নকশা তৈরি হয়েছিল যেখানে থেকে। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দোর্দণ্ডপ্রতাপ লক্ষণ শেঠকে হারিয়ে তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে লোকসভায় গিয়েছিলেধশুভেন্দু অধিকারী। তারপরে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পরিষদ দখল। সেআ নন্দীগ্রাম থেকে এবার পালিয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যান্ড কোম্পানি।কী আশ্চর্য সমাপতন!
আর পড়ে রইলো রেজিনগর। রাজনৈতিক হিংসায় রাজ্যের এক নম্বর জেলা মুর্শিদাবাদ আপাতত একদম শান্ত।
তাঁর মানে এখানে বারোধীরা সবাই বাড়িতে ঢীকে গিয়েছেন এমনটা কিন্তু নয়। বরং এই উপনির্বাচনে ভোটদান পর্বের আগে পর্যন্ত মুর্শিদাবাদকে দেখলে মনে হবে রাজ্যের সব থেকে গণতন্ত্রপ্রিয় জেলা। এখানে তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠীরই প্রার্থী রয়েছেন। এখানেও প।রায়ে ভোটের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত দেখা নেই মমতা এবং অভিষেকের। তবে জোরদার প্রচার করছে তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠী। মুর্শিদাবাদের দুই সাংসদ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল বিধায়ক দলের 'নম্বর টু' আখেরুজ্জামানকে নিয়ে খোল জিপে চেপে প্রচার করেছেন মদন মিত্ররা। সিপিএম এবং কংগ্রেসের মতো বিজেপিও শান্তিপূর্ণ লড়াই করছে।
এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে যাওয়া হুমায়ুন কবিরের দলের ও প্রার্থী রয়েছেন। এখানে এবার বেশ চাপে হুমায়ুনের প্রার্থী। আর সেই চাপের মুখে তিনি দিশা হারিয়েছেন । একবার শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যু কামনা করছেন, আবার 'ভুল' স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ জীবন কামনা করছেন। বিজেপি তাঁকে 'ক্লোজ মার্কিং'য়ে রেখেছে। দখলদারির খেলায় হুমায়ুনকে তবে কি পকেটে পুরে ফেলেছে বিজেপি?
নির্বাচন কমিশনের কাছে থেকে ফুটবলার প্রতীক পেয়েছে তৃণমূল। মমতার ফুটবলার নন্দীগ্রামে মঠের বাইরে। ওয়াকওভার। আর রেজিনগরে পায়ে বল একবারের জন্যও পায়নি মমতার 'ফুটবলার'।
বিজেপি আগে থেকেই খেলে দিয়েছে। দুই কেন্দ্রে দুই রকম খেলা। খেলা শুরুর আগেই তা শেষ। (ছবি, অসমের রাণী সংরক্ষিত বনাঞ্চল সুর্য ডুবু ডুবু ,বিহু মহড়া চলছে) লেখক আনন্দবাজারের প্রাক্তন সাংবাদিক।
Comments
Post a Comment