শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব তিথিতে নেপাল এ পোখরা শহর অনন্য অভিজ্ঞতা
অমল গুপ্ত ,৪ সেপ্টেম্বর ল ,কান্দি জেল রোড ,মুর্শিদাবাদ : আজ জন্মাষ্টমী ,শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি সারা দেশে বিশেষ করে মথুরা বৃন্দাবনে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয়। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি এই উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।এইশুভ দিবসে নেপালের শ্বেত শুভ্র হিমালয়ের কোলে অন্নপূর্ণা রেঞ্জের সমতলে সুন্দর মনোরম শহর পোখরা তে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল।এই দিনে শ্রীকৃষ্ণের প্রতিকৃতি নিয়ে একটি পর একটি শোভাযাত্রা দেখলাম। সবদিক হরিনাম সংকীর্তন ও মুখর রাস্তা ঘাট বাড়ির অঙ্গনে শিব স্তুটি পুজো অর্চনা।প্রতিটি যানবাহন নাম হিন্দু দেবদেবীর নামে। গরু তাদের জাতীয় পশু , তিন কোটি জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ বেশী হিন্দু। আসন্ন দুর্গাপুজো তে প্রতি বাড়িতে দুর্গা বন্দনা , মা দুর্গার প্রতিকৃতি , বড় করে কলকাতার মত লোক দেখানো মণ্ডপ নির্মাণ করে দুর্গা পুজো গয়না।পুরোনো মন্দিরে সাড়ম্বরে দুর্গা পুজো অর্চনা হয়ে থাকে। আজকের দিনে শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব তাদের কাছে অন্যতম বড় উৎসব। রাতভর সংকীর্তন পুজো অর্চনা। অবাক হবেন পর্যটন আর জলবিদ্যুৎ , উন্নত মানের পশম সবথেকে বড় রাজস্ব আয়ের পথ।অবাক হবেন নেপলের ৭৫ শতাংশ যুবক যুবতী কর্মসংস্থান জন্যে বিদেশে পাড়ি জমায়।পোখরা শহর দেখলাম জাপানি কোরিয়া ,কানাডা ভাষা শেখার স্কুল ।কর্তৃপক্ষ এই সব ভাষা শিখিয়ে ওরাই নিজের দেশে নিয়ে গিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।ওদের দেশে এত বেকার নেই।আমি পোখরা লেকের কাছে দণ্ডী রাজ দাহাল পরিবারে ছিলাম কিছুদিন। দেখলাম প্রতিটি পরিবারে একজন দুজন করে ছেলে মেয়ে জার্মান ,জাপান ব্রিটেনে কাজ করছেন। বেশির ভাগ জাপান যাচ্ছেন। কোটি কোটি টাকা ডলার পাউন্ড ইয়েন , , ঢুকছে কোষাগারে । শহর থেকে দূরে পাঁচ হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের মাথায় ইকো ভিলেজে ,যেন সামনেই অন্নপূর্ণা বরফ আবৃত বিশাল পাহাড়। ঝর্ণার জল ,নিজস্ব বাগানে কফি ,চা গাছ ঘরের দুধ ঘি। সবই অর্গানিক , খাবার। ৯৯ শতাংশ বিদেশের ,সবাই ভারতের সংস্কৃতি ভারতে যোগাভ্যাস শিখতে এসেছেন। ভারত আত্মার পরিচয় লাগে । ভাবতে কষ্ট হলেও মেনে নিয়ে গর্ব হল। এই আমাদের ভারতবর্ষ। শ্রীকৃষ্ণের দেশ ,বুদ্ধদেব দেশ । সারারাত হরি নাম সংকীর্তন জীবন পথে উজ্জ্বল স্মৃতি। সেই নেপাল আজ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বড্ড কষ্ট যন্ত্রণার মধ্যে আছে। বাংলা দেশে চট্রগ্রামে রথ উৎসবের সময় ছিলাম সঙ্গে পত্নী সান্তনা ছিল।আজ নেই।সেই উৎসবে আমাদের সঙ্গে কয়েকজন যুবক দেখা করে এক নথি দিয়েছিল।বলেছিল গুয়াহাটি ফেরার আগে খুলবেন না। গুয়াহাটি ফিরে দেখলাম হাজার খানিক হিন্দু মেয়ের নাম যাদের নির্মম ভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়।।সালটা ছিল ২০১৩ আজও বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছে। ভারত সরকার বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী আজও হ্যাঁ আজও হিন্দুদের উপর লাগাতার অত্যাচার করছে।আর আমরা বাঙালিরা মৌনব্রত পালন করছি। নেপালে আধ্যাত্মিক শুদ্ধ পরিবেশ অপরদিকে বাংলাদেশে হিংসা ।
।
Comments
Post a Comment