সারা অসম বাঙালি যুব ছাত্র পরিষদের অধিবেশনের স্মৃতি রোমন্থন চিত্ত পালের

"সারা অসম বাঙালি যুব ছাত্র পরিষদ" গঠন করেছিলাম ১৯৯০ সালে। তখন তা নগাঁও শহর কেন্দ্রিক ছিলো। ১৯৯২ সালে গুয়াহাটি কালাপাহাড় ভি আই পি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সভায় পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছিলাম। তারপর থেকেই অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো দূরন্ত ছুটতে শুরু করেছিলাম। এক জেলা থেকে অন্য জেলা। গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়েছি। বাঙালি সংগঠনের বিস্তার বাড়াতে। টাকা পয়সা হয়তো উপার্জন করতে পারি নি। কিন্তু পেয়েছি অসংখ্য মানুষের আদর, ভালোবাসা ও সন্মান।
সৃষ্টিকর্তার কী অদ্ভুত লীলা! এতোদিনের অর্জিত ও সঞ্চিত সন্মান ভালোবাসা এক নিমেষেই যেনো সব ভাসিয়ে নিয়ে গেলো। উত্তাল সাগরের নীলিম ঢেউয়ের মতোই দূর দিগন্তের দিকে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো। তিনসুকিয়া শহরে অনুষ্ঠিত "বাঙালি জাতীয় পরিষদ, অসম" এর সভায় উপস্থিত হয়ে গত দুদিন যে আতিথেয়তা পেয়েছি, তা আমার শাপমুক্ত স্মৃতির অন্দরমহলে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সংগঠনের কর্মকর্তাদের মিষ্টি আচরণ, ভদ্রতা  ও অকৃত্রিম ব্যবহার পেয়ে আমি অভিভূত হয়েছি। তিনসুকিয়া জেলা কমিটির সদস্যরা আমাকে চির ঋণী করে ফেলেছে। অবশ্যই কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম দাসের প্রশংসা করতে দ্বিধা বোধ করবো না। তাঁর পূর্ব নির্দেশেই সবকিছু পরিচালিত হয়েছে। 
গতকাল ওদের উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে উত্তম বাবুর প্রাইভেট কারে ধলা শদিয়া ব্রীজ দেখতে গিয়েছিলাম। কমপক্ষেও পঞ্চাশ পঞ্চান্ন কিলোমিটার দূর হবে। বরহাপজান নামে একটি ছোট্ট শহরে ব্রেকফাস্ট সেরে নিলাম। পরোটার সাইজের দুটো বড় বড় লুচি ও ছোলা আলুর তরকারি। সঙ্গে গরম গরম ঘিয়ে ভাজা জিলেপি ও চা। এশিয়ার সর্ববৃহৎ ব্রীজ ৯.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ পেরিয়ে ফিরে এসেছি। ফেরা পথে লাঞ্চ করেছি ন্যাশনাল হাইওয়ে ৩৭ ধাবায়। বাসমতি চালের ভাত, ডাল, মিক্সড ভেজিটেবল, পনির মশালা ও চিকেন কারি সঙ্গে স্যালাড।
সন্ধ্যা সাতটায় আমাদের ফেরার পালা। যাত্রাপথ হচ্ছে নিউ তিনসুকিয়া ষ্টেশন থেকে লামডিং। পাঁচজন মানুষ আমাদের "সী অফ" করতে এসেছিলেন। রাত আটটায় কন্যাকুমারী বিবেক এক্সপ্রেস ছাড়ার মূহুর্ত পর্যন্ত তাঁরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রেনে রাতের ডিনারের জন্য চারটে নান ও পনির দিয়ে প্রস্তুত মিক্সড ভেজিটেবলের কনটেইনারের প্যাকেট। অভিজাত রেষ্টুরেন্ট থেকে দুজনের জন্য দুটো প্যাকেট কিনে সঙ্গে দিয়েছিলেন। আমার সহযাত্রী ছিলেন অন্যতম সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার দেব। তিনি হাফলং শহরে থাকেন। রাত সোয়া তিনটায় লামডিং এসে পৌঁছানোর পর এসি থ্রী টায়ার্ড ওয়েটিং রুমে বসে সকালের অপেক্ষায় ছিলাম।সংগঠনের বিষয়ে আলোচনা করে তিন ঘন্টা কাটানোর পর দুজন দু দিকে হুগলি ও পদ্মা নদীর মতো গন্তব্যের দিকে ছুটে চললাম। সকাল সাতটা পাঁচের শিলচর-রঙ্গিয়া এক্সপ্রেস চড়ে আমি যমুনামুখ বোনের বাড়িতে পৌঁছেছি। সময় তখন ঠিক সোয়া আটটা। 
সত্যিই আমি মুগ্ধ! তিনসুকিয়া ভ্রমণ আমাকে প্রেরণা ও যথেষ্ঠ উৎসাহ দিয়েছে। আমি মন্ত্রী, এম এল এ কিংবা কোনো বোর্ডের চেয়ারম্যানও নই। আমার কিছুই নেই। নিঃস্ব আমি। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছাড়া দেওয়ার মতো কিছু নেই। তাই আমি সকলকে অকৃত্রিম ধন্যবাদ জানাই। তখন কি তেজপুরের বড়লোক  সভাপতি ছিলেন? 

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বে আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রাথ নাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

কান্দি রেডক্রস সোসাইটি অরণ্য সপ্তাহ

কান্দিতে বাঙালি সংস্কৃতি ইতুর খন্ড চিত্র