তিনসুকিয়া হোটেলে বাঙালি জাতীয় পরিষদ গঠন ,বাঙালি সংখ্যা অনুপাতে বাঙালি মন্ত্রী কোথায়?

 নয়া ঠাহর, সংবাদদাতা :গুয়াহাটি, ৬ সেপ্টেম্বর:: বাঙালি জাতীয় পরিষদের তিনসুকিয়া জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে আজ। এই সভা স্থানীয় প্রমোদ হোটেলের প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় পৌরহিত্য করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক উত্তম দাস। ৩১ জন সদস্য নিয়ে তিনসুকিয়া জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি চিত্ত পাল তাঁর ভাষণে মুখ্যমন্ত্রীর এক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দেন। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে তাঁর শাসনকালে হিন্দু বাঙালিদের নাকি কোনো অসুবিধাই হচ্ছে না। যদিও বাস্তব ছবি হচ্ছে নিষ্পেষিত ছিন্নমূল এই জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার অত্যন্ত ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে সঙ্কুচিত করা পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকেই অসম মন্ত্রীসভায় তিন বা চারজন হিন্দু বাঙালি মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জনসংখ্যার অনুপাতে প্রায় সত্তর লক্ষ বাঙালির প্রতিনিধিত্বের জন্য মাত্র একজন মন্ত্রী বরাদ্দ করেছে বর্তমান সরকার। চিত্ত পাল তাঁর ভাষণে আরও বলেন, তিনসুকিয়া থেকে শিলচরের দূরত্ব হচ্ছে ৫৫০ কিলোমিটার এবং গোসাইগাঁও থেকে শিলচরের দূরত্ব হচ্ছে ৬৪০ কিলোমিটার। বরাক উপত্যকার একজন হিন্দু বাঙালি মন্ত্রীকে শুধু বরাক উপত্যকার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালিদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালিরা এই জনগোষ্ঠীর একজন মন্ত্রী না পাওয়ার দরুণ তাঁদের অভাব অভিযোগ তুলে ধরতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে হিন্দু বাঙালিরা অভিভাবকহীন হতে বাধ্য হয়েছেন। তাছাড়া, এই উপত্যকার হিন্দু বাঙালির দলীয় প্রার্থিত্ব হ্রাস করার পাশাপাশি বাঙালি বিধায়কের সংখ্যাও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। আগন্তুক দিনে বাঙালি জাতীয় পরিষদ হিন্দু বাঙালির এই রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই তীব্র করে তুলবে বলে চিত্ত পাল মন্তব্য করেন।
পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার দেব প্রদত্ত ভাষণে বাঙালি মন্ত্রী বিধায়কদের সমালোচনা করে বলেন, বাঙালি সমাজের প্রতি তাঁদেরও দায়িত্ব রয়েছে। শুধু নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংসদ ও বিধায়ক হওয়াটাই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। হিন্দু বাঙালির আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য মন্ত্রী বিধায়ক তথা লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদেরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দাবী আদায় করতে পারেন। ওদিকে, বরাক উপত্যকার জন্য এক নীতি ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি। তা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক! বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বিভাজন না টেনে উভয় উপত্যকার হিন্দু বাঙালিদের একত্রিত করে বৃহত্তর অসমের অংশীদার করতে আহ্বান তিনি জানান।
কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক উত্তম দাস বলেন, অসমের সত্তর লক্ষ হিন্দু বাঙালির আর্থ- সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে অবিলম্বে "বাঙালি অটোনোমাস কাউন্সিল ( স্যাটেলাইট)" গঠন করা উচিত। তিনি বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করার পাশাপাশি অসমের সকল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। কেন্দ্রীয় উপ সভাপতি আপন দাস বলেন, বাঙালির মধ্যে একতা না থাকার দরুন আজ মাথায়  ডি ভোটারের তকমা নিয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তিনসুকিয়া বঙ্গীয় বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল বয়োজ্যেষ্ঠ পুলকেশ বসু বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয় গুলির বাস্তব দুরবস্থা তুলে ধরেন। সভায় শংকর দাস ও সুরোজিৎ দাস সহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। সভার শেষে লাঞ্চের ব্যবস্থাও করা হয়েছিলো। 

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বে আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রাথ নাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

কান্দি রেডক্রস সোসাইটি অরণ্য সপ্তাহ

কান্দিতে বাঙালি সংস্কৃতি ইতুর খন্ড চিত্র