২২ শ্রাবণ যেদিন মৃত্যু ও থেমে যায় ,থাকে শুধু স্মৃতি

২২ শ্রাবণ: যে দিন মৃত্যু থেমে যায়, রবীন্দ্রনাথ থেকে যান

শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ  ,সাংবাদিক ,কলকাতা

আজ ২২ শ্রাবণ। বাংলা ক্যালেন্ডারের আর পাঁচটা দিনের মতো নয় এই দিন। আকাশে মেঘ জমলে, জানলার কাচে বৃষ্টির ফোঁটা নামলে, কোথাও দূরে রবীন্দ্রসঙ্গীত ভেসে এলে—এই দিনটির সঙ্গে বাঙালির স্মৃতিতে যেন আরও গভীর হয়ে মিশে যায় একটি নাম—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৮৩ বছর আগে, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ, কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে থেমেছিল কবির জীবনপ্রদীপ। কিন্তু সেই দিনই কি শেষ হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ? ইতিহাসের উত্তর—না। বরং মৃত্যুর পর থেকেই তিনি আরও বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন বাঙালির ঘর, গান, কবিতা, উৎসব, শিক্ষা, প্রেম, প্রতিবাদ এবং দৈনন্দিন জীবনে।
তাই ২২ শ্রাবণ আসলে মৃত্যুর দিন নয়, থেকে যাওয়ার দিন।
রবীন্দ্রনাথ চলে গিয়েছেন, কিন্তু রেখে গিয়েছেন এমন এক বিপুল সৃষ্টিসম্ভার, যার মধ্যে প্রতিটি প্রজন্ম নিজের মতো করে খুঁজে নেয় তাকে। কখনও তিনি প্রেমের কবি, কখনও প্রকৃতির, কখনও মানুষের মুক্তির কথা বলা এক বিশ্বমানব। কখনও তাঁর গান একাকিত্বের সঙ্গী, কখনও প্রতিবাদের ভাষা, কখনও আবার আনন্দের উৎসব।
শ্রাবণের বৃষ্টির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কও যেন ২২ শ্রাবণ: যে দিন মৃত্যু থেমে যায়, রবীন্দ্রনাথ থেকে যান
নিজস্ব প্রতিবেদন
আজ ২২ শ্রাবণ। বাংলা ক্যালেন্ডারের আর পাঁচটা দিনের মতো নয় এই দিন। আকাশে মেঘ জমলে, জানলার কাচে বৃষ্টির ফোঁটা নামলে, কোথাও দূরে রবীন্দ্রসঙ্গীত ভেসে এলে—এই দিনটির সঙ্গে বাঙালির স্মৃতিতে যেন আরও গভীর হয়ে মিশে যায় একটি নাম—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৮৩ বছর আগে, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ, কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে থেমেছিল কবির জীবনপ্রদীপ। কিন্তু সেই দিনই কি শেষ হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ? ইতিহাসের উত্তর—না। বরং মৃত্যুর পর থেকেই তিনি আরও বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন বাঙালির ঘর, গান, কবিতা, উৎসব, শিক্ষা, প্রেম, প্রতিবাদ এবং দৈনন্দিন জীবনে।
তাই ২২ শ্রাবণ আসলে মৃত্যুর দিন নয়, থেকে যাওয়ার দিন।
রবীন্দ্রনাথ চলে গিয়েছেন, কিন্তু রেখে গিয়েছেন এমন এক বিপুল সৃষ্টিসম্ভার, যার মধ্যে প্রতিটি প্রজন্ম নিজের মতো করে খুঁজে নেয় তাকে। কখনও তিনি প্রেমের কবি, কখনও প্রকৃতির, কখনও মানুষের মুক্তির কথা বলা এক বিশ্বমানব। কখনও তাঁর গান একাকিত্বের সঙ্গী, কখনও প্রতিবাদের ভাষা, কখনও আবার আনন্দের উৎসব।
শ্রাবণের বৃষ্টির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কও যেন অন্যরকম। তাঁর অসংখ্য গান ও কবিতায় বৃষ্টি এসেছে কখনও বিরহের প্রতীক হয়ে, কখনও নবজাগরণের বার্তা হয়ে। তাই ২২ শ্রাবণে আকাশ মেঘলা হলেই বাঙালির মনে হয়—প্রকৃতিও বুঝি আজ কবিকে স্মরণ করছে।
কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে শুধু স্মরণ করার জন্য কি ২২ শ্রাবণ?
প্রশ্নটা উঠছে আরও জোরালোভাবে। কারণ রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসা মানে শুধু তাঁর গান গাওয়া নয়, তাঁর ভাবনাকে জীবনে কতটা ধারণ করা—সেই প্রশ্নও সামনে আনে এই দিন।
যে কবি মানুষে মানুষে বিভেদ মানেননি, যে কবি সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বমানবতার কথা বলেছেন, যে কবি শিক্ষাকে মুক্ত আকাশের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছেন, তাঁর উত্তরাধিকার আজকের সমাজে কতটা জীবন্ত? ২২ শ্রাবণ তাই আবেগের পাশাপাশি আত্মসমীক্ষারও দিন।
আজ জোড়াসাঁকো থেকে শান্তিনিকেতন—বিভিন্ন জায়গায় কবিকে স্মরণ করা হচ্ছে। কোথাও কবিতাপাঠ, কোথাও রবীন্দ্রসঙ্গীত, কোথাও আলোচনা সভা। স্কুল-কলেজ থেকে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান—সবখানেই ফিরে আসছেন রবীন্দ্রনাথ।
তবু সবচেয়ে বড় স্মরণ হয়তো কোনও মঞ্চে নয়।
হয়তো কোনও মা তাঁর সন্তানকে ‘সহজ পাঠ’ পড়াচ্ছেন। কোনও তরুণ একা বসে শুনছেন ‘আমার পরাণ যাহা চায়’। কোনও প্রেমিক-প্রেমিকা রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নিজেদের অনুভূতির ভাষা খুঁজছেন। কোনও পথশিশুর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর লেখা। কিংবা কোনও বৃদ্ধ মানুষ নিঃশব্দে গুনগুন করছেন—বহু বছর আগের কোনও গান।
সেখানেই রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকেন।
৮৩ বছর আগে ২২ শ্রাবণে একজন মানুষ চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু একটি কণ্ঠস্বর থামেনি। একটি কলম থামেনি। একটি দর্শন থামেনি।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে প্রযুক্তি, বদলেছে জীবনযাপন, বদলেছে সমাজ। কিন্তু মানুষের আনন্দ, দুঃখ, প্রেম, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব, প্রকৃতির প্রতি টান—এসবের ভাষা এখনও বারবার ফিরে যায় রবীন্দ্রনাথের কাছে।
তাই আজ ২২ শ্রাবণে প্রশ্নটা ‘রবীন্দ্রনাথকে কতটা মনে রাখলাম’ নয়।
বরং প্রশ্নটা হতে পারে—
রবীন্দ্রনাথ আমাদের কতটা বদলাতে পেরেছেন?
কারণ মানুষটি চলে গিয়েছিলেন ২২ শ্রাবণে।
কিন্তু তাঁর লেখা, তাঁর গান, তাঁর চিন্তা—আজও প্রতিদিনের বাঙালির জীবনে ফিরে আসে।
এই কারণেই ২২ শ্রাবণ শোকের দিন হয়েও শুধুই শোকের নয়।
এ দিন মনে করিয়ে দেয়—
মৃত্যু একজন মানুষকে থামাতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের সৃষ্টিকে নয়।
২২ শ্রাবণ তাই শেষের দিন নয়।
২২ শ্রাবণ—রবীন্দ্রনাথের আরও একবার ফিরে আসার দিন অন্যরকম। তাঁর অসংখ্য গান ও কবিতায় বৃষ্টি এসেছে কখনও বিরহের প্রতীক হয়ে, কখনও নবজাগরণের বার্তা হয়ে। তাই ২২ শ্রাবণে আকাশ মেঘলা হলেই বাঙালির মনে হয়—প্রকৃতিও বুঝি আজ কবিকে স্মরণ করছে।
কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে শুধু স্মরণ করার জন্য কি ২২ শ্রাবণ?
প্রশ্নটা উঠছে আরও জোরালোভাবে। কারণ রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসা মানে শুধু তাঁর গান গাওয়া নয়, তাঁর ভাবনাকে জীবনে কতটা ধারণ করা—সেই প্রশ্নও সামনে আনে এই দিন।
যে কবি মানুষে মানুষে বিভেদ মানেননি, যে কবি সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বমানবতার কথা বলেছেন, যে কবি শিক্ষাকে মুক্ত আকাশের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছেন, তাঁর উত্তরাধিকার আজকের সমাজে কতটা জীবন্ত? ২২ শ্রাবণ তাই আবেগের পাশাপাশি আত্মসমীক্ষারও দিন।
আজ জোড়াসাঁকো থেকে শান্তিনিকেতন—বিভিন্ন জায়গায় কবিকে স্মরণ করা হচ্ছে। কোথাও কবিতাপাঠ, কোথাও রবীন্দ্রসঙ্গীত, কোথাও আলোচনা সভা। স্কুল-কলেজ থেকে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান—সবখানেই ফিরে আসছেন রবীন্দ্রনাথ।
তবু সবচেয়ে বড় স্মরণ হয়তো কোনও মঞ্চে নয়।
হয়তো কোনও মা তাঁর সন্তানকে ‘সহজ পাঠ’ পড়াচ্ছেন। কোনও তরুণ একা বসে শুনছেন ‘আমার পরাণ যাহা চায়’। কোনও প্রেমিক-প্রেমিকা রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নিজেদের অনুভূতির ভাষা খুঁজছেন। কোনও পথশিশুর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর লেখা। কিংবা কোনও বৃদ্ধ মানুষ নিঃশব্দে গুনগুন করছেন—বহু বছর আগের কোনও গান।
সেখানেই রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকেন।
৮৩ বছর আগে ২২ শ্রাবণে একজন মানুষ চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু একটি কণ্ঠস্বর থামেনি। একটি কলম থামেনি। একটি দর্শন থামেনি।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে প্রযুক্তি, বদলেছে জীবনযাপন, বদলেছে সমাজ। কিন্তু মানুষের আনন্দ, দুঃখ, প্রেম, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব, প্রকৃতির প্রতি টান—এসবের ভাষা এখনও বারবার ফিরে যায় রবীন্দ্রনাথের কাছে।
তাই আজ ২২ শ্রাবণে প্রশ্নটা ‘রবীন্দ্রনাথকে কতটা মনে রাখলাম’ নয়।
বরং প্রশ্নটা হতে পারে—
রবীন্দ্রনাথ আমাদের কতটা বদলাতে পেরেছেন?
কারণ মানুষটি চলে গিয়েছিলেন ২২ শ্রাবণে।
কিন্তু তাঁর লেখা, তাঁর গান, তাঁর চিন্তা—আজও প্রতিদিনের বাঙালির জীবনে ফিরে আসে।
এই কারণেই ২২ শ্রাবণ শোকের দিন হয়েও শুধুই শোকের নয়।
এ দিন মনে করিয়ে দেয়—
মৃত্যু একজন মানুষকে থামাতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের সৃষ্টিকে নয়।
২২ শ্রাবণ তাই শেষের দিন নয়।
২২ শ্রাবণ—রবীন্দ্রনাথের আরও একবার ফিরে আসার দিন।

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বে আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রাথ নাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন