অবহেলিত উপেক্ষিত কান্দি মহকুম,া চিকিৎসা স্বাস্থ্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই
শূন্য ঝুলি পূর্ণ হবে কবে ?
শ্রী সঞ্জয় কুমার মিশ্র, জেল রোড, কান্দি
মুর্শিদাবাদ জেলার সুপ্রাচীন একটি মহকুমা শহর যার নাম কান্দি , যে নামটা অনেকের কাছেই অপরিচিত অজানা একটি নাম। কথাতেই আছে কান্দির বাসিন্দাদের নাকি কি কাঁদতে কাঁদতে জন্ম যায় সবার নজরের বাইরে।
সুপ্রাচীন এই জনপদ যা দেড় শতাধিক বৎসরের একটি পৌরসভা ও মহকুমা শহর,যে শহর জগদ্বিখ্যাত লালাবাবুর জন্মভিটে ,সাহিত্যিক ও বিজ্ঞানী আচার্য রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী মহাশয়ের জন্মস্থান, যে শহরে পা রেখেছেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়, যে মাটি সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ মহাশয়ের, শোনা যায় কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় মহাশয়ের সেই বিখ্যাত গান ধন ধানে পুষ্পে ভরা সম্ভবত এই এলাকাতে সৃষ্টি,কিন্তু কোনো তথ্য প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। এই রকম একটি জনপদ সেটা বরাবরের জন্য সকলের নজরের বাইরে থেকে গেছে । সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আজ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এত বছর পর্যন্ত এই এলাকা অবহেলিত এবং উপেক্ষিত। এই কান্দি এলাকায় পাওয়ার থেকে না পাওয়ার তালিকা দীর্ঘ। কিছুই নাই, তার মধ্যে যেটা আছে তা উচ্চ শিক্ষার অভাব। কোনোরকমে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর নড়বড়ে পরিকাঠামোর উপর ভিত্তি করে গ্রাজুয়েট। ব্যাস এখানেই শেষ। ধনী বিত্তবানদের জন্য আছে বাইরে শিক্ষা ব্যবস্থা। বালিকা বিদ্যালয় বলতে একটি মাত্র যে বিদ্যালয় ছাত্রীভারে নুইয়ে আছে। আছে একটি বালিকা মহাবিদ্যালয়ের অভাব তার জন্য আছে বহরমপুর সদর। এই মোট শিক্ষাব্যবস্থা।যা কিছু আছে সবই বহরমপুর কেন্দ্রিক জেলার সদর শহর তো।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বলতে একটি হাসপাতাল আছে , যদিও সেটা মহকুমা হাসপাতাল কিন্তু একটা গ্রামীণ হাসপাতালের মতো। বিল্ডিং আছে চিকিৎসা নাই, রোগী আছে ডাক্তার নাই। যন্ত্রপাতি আছে পরিচালনার লোক নাই। তারপর আছে হাসপাতালের নিজস্ব রোগ - রেফার রোগ । রোগী গেলেই রেফার আর তার জন্য সরাসরি এম্বুলেন্স।এই একটি ব্যবসা খুব ভালো চলে। রাত্রিকালীন জরুরি কোনো অপারেশনের প্রয়োজন হলে রেফার টু বহরমপুর এটা ধরা বাঁধা নিয়ম। আর রোগটা হার্টজনিত হলে রেফার টু বহরমপুর মেডিকেল কলেজ বা বর্ধমান মেডিকেল কলেজ। ছোটো খাটো অপারেশন ক্ষেত্রে আছে প্রাইভেট নার্সিং হোমের ব্যবস্থা।কয়েক লক্ষ লোকের নির্ভরশীল এই মহকুমা হাসপাতাল দূরদূরান্ত থেকে রোগী নিয়ে এসে এই রেফার রোগের যন্ত্রণায় পড়তে হয়। এখন শুধু মেডিকেল কলেজ আর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ছড়াছড়ি শুধু এই কান্দি মহকুমা এলাকা বাদ।এলাকার একজন সাধারণ বাসিন্দা হিসাবে আমাদের কাছে এটা খুব এক আক্ষেপের এবং কষ্টদায়ক ও বটে।
এই এলাকার ধারে কাছে কোনো জাতীয় সড়ক নাই।যোগাযোগ ব্যবস্থায় এলাকাবাসীর কষ্ট চিরদিনের। যদিও বা ক্ষীণ আশা ছিলো যে ১১৬ এ জাতীয় সড়কের একটু ছোঁয়া কান্দি পাবে কিন্তু না।কান্দিকে অনেক বাইরে রেখে এই রাস্তা বেরিয়ে যাবে। থাকার মধ্যে আছে রাজ্য সড়ক এস এইচ ১১। গোটা হিজল বরাবর মাঝখানে তিনটি বড় বড় সড়ক ব্রিজ রাস্তাবিহীন,যানবাহন যোগাযোগ হীন অবস্থায় মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে উপযুক্ত রাস্তা না থাকার কারণে। কোনো যান চলাচল করে না বা কোনো উপকারিতা পাওয়া যায় না। যেটা যোগাযোগ হলে সরাসরি সাটুই চৌরিগাছার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হতো। কান্দি লাগোয়া পৌরসভার একটা ওয়ার্ড রসোরা যার রাস্তা অতি সংকীর্ণ, বাস চলাচলের খুব অসুবিধা । রসোরা কে বাইপাস করে একটি রাস্তার সম্ভাবনা থাকলেও তI আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
এই এলাকার বাচ্চা ও যুবকদের জন্য খেলাধুলার কোনও পরিকাঠামোগত সুবিধা নাই।দৈহিক চর্চা ও মানসিক বিকাশ থেকে তাই তারা অনেক দূরে।থাকার মধ্যে একটি মাত্র মাঠ আছে বটে কিন্তু সেটা সবসময় সহজ প্রাপ্য হয়না। সেই কারণে খেলাধুলার মান অনেক পিছিয়ে।
বয়স্ক প্রবীণ মানুষদের জন্য একটু পদচারণা বা একটু বসে সময় কাটানোর জায়গার বড় অভাব।বয়স্ক যাঁরা আছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার ধার বরাবর হাঁটাহাঁটি করেন বটে,তবে সেখানে থাকে না কোনো খোলা উন্মুক্ত পরিবেশে বা পরিচ্ছন্ন মুক্ত বাতাস,যা এলাকার বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছে যথেষ্টই কষ্টদায়ক।
কান্দির মানুষের কাছে রেল যোগাযোগ আকাশ কুসুম কল্পনা। স্বপ্ন থাকতে পারে বাস্তবে নয়। বিংশ শতাব্দীর ছয়ের দশক থেকে দাবী থাকলে ও আমাদের যাঁরা প্রতিনিধি ছিলেন তাঁরা এটার কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন নি বা বলা যায় অন্য অনেক বড় কাজের মধ্যে এই সামান্য বিষয়ে নজর দেওয়ার সময় পাননি। কাজেই দীর্ঘদিনের জন্য এই কান্দি এলাকা রেল মানচিত্রের বাইরে থেকে গেছে। দীর্ঘদিনের এটাই নিয়ম,যে এলাকা উন্নত সেখানে আরও উন্নত করা,যেখানে অনুন্নয়ন এর অন্ধকার সেখানে আরও অন্ধকারের দিকে তলিয়ে যাওয়া।রেলের ক্ষেত্রে যেখানে একটি লাইন সেখানে ডবল, যেখানে ডবল লাইন সেখানে তৃতীয় লাইন হয়। উন্নত পরিষেবা ট্রেন বাড়ে,স্টেশন সৌন্দর্য্যায়ণ হয়। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ে। এটাও খুব ভালো তার প্রয়োজন আছে, কিন্তু প্রয়োজন আছে যেখানে কিছুই নাই সেই এলাকা কেও টেনে তোলার। এলাকা বাসীর ইচ্ছা পূরণে যদি এই রেলের ব্যাপারটা একটু অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থান পায় তাহলে কান্দি বাসী উপকৃত হবে। কারণ প্রকৃত উন্নয়ন বলতে তো এলাকায় কিছুই হয়নি কোনোদিন। এত বছরের পুরাতন শহর হওয়া সত্বেও তা সে ছোটবড় যা হোক একটি মহকুমা শহরের মর্যাদা তো খাতায় কলমে আছে।এরই মধ্যে সান্ত্বনার এই যে বাংলার যে 61 টা রেল প্রকল্প আছে তার মধ্যে 50 নম্বরে চৌরিগাছা সাঁইথিয়া ভায়া কান্দি নামটা আছে। এটাই বা কম কিসের এটা দেখতে দেখতে ও কাল কেটে যাবে সমস্ত জায়গার শ্রীবৃদ্ধি র সাথে নিজের এলাকার যদি কিছুটা শ্রী ফেরে তাহলে এলাকার সাধারণ একজন বাসিন্দা হিসাবে ভালো লাগে বৈকি।
জেলা বা জেলার আশপাশের উন্নয়নের ধারা দেখে ঈর্ষাপরায়ণ না হয়ে বরং এলাকার জন্ম নেওয়া একটা অতি সাধারণ বাসিন্দা হিসাবে ডবল ইঞ্জিন সরকারের কাছে আবেদন এই এলাকা যদি উন্নয়নের কোন ছোঁয়া পায় সেই আশা তে এই প্রতিবেদন।
Comments
Post a Comment