মেঘালয় বার বার বাঙালি নিগ্রহের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি বিডি এফের
নয়া ঠাহর, সংবাদদাতা শিলচর
মেঘালয়ে সমতল বাসী তথা বাঙালিদের বাববার নিগ্রহের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক - স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হতে আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে আহ্বান জানাল বিডিএফ।
সম্প্রতি শিলংয়ে খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের একটি কালো পতাকা মিছিলকে কেন্দ্র করে শিলংয়ে ফের একাধিক হিংসাত্মক ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন সমতলবাসী পথচারী। সাথে আসামের বৃহৎ সংখ্যক বেসরকারি ট্যুরিস্ট গাড়িতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভাংচুর চালানো হয়েছে। ভাংচুর চালানো হয়েছে নেতাজি ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে। মেঘালয়ে বারবার এইধরনের অশান্তি ও হিংসাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হতে আহ্বান জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে তাঁদের বিগত দাবি পূরনে সরকারি বিলম্ব ও ইচ্ছাকৃত অবহেলার অভিযোগে কেএসইউর এই মিছিল সংগঠিত হয়েছিল। এর সাথে সাধারণ পথচারী বা আসামের গাড়ি এবং চালকদের কোন সংযোগ ছিল না। অথচ বিনা প্ররোচনায় মিছিলে যোগদানকারী একাংশ সদস্য তাঁদের উপর এদিন চড়াও হয়েছেন। তিনি বলেন এই ঘটনার দায় সরকার এবং সংগঠনের নেতৃত্ব এড়াতে পারেন না। সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে এই ব্যাপারে অগ্রিম তথ্য না থাকাটা যেমন ব্যর্থতা,তেমনি অগ্রিম সাবধানতা অবলম্বন করে প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন না করাও সরকারি হটকারিতা। একই ভাবে কেএসইউ নেতৃত্বও এই অহেতুক হিংসা সামলাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন যে যদিও মেঘালয় সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্র সংস্থার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। যাঁদের যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা তথা স্থানীয় এবং ট্যুরিস্টদের আগামী নিরাপত্তা সম্পুর্ন সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে মেঘালয় সরকারকে।
প্রদীপ দত্তরায় এদিন আরো বলেন যে মেঘালয়ে অন-উপজাতিদের উপর কেএসইউর এই ধরনের নির্যাতনের ঘটনা প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। তারপর থেকে এইধরনের নিগ্রহের ঘটনা ধারাবাহিক ভাবে চলছে। যে রাজ্যের নাম দিয়েছিলেন একজন বাঙালি শিক্ষাবিদ,যে শিলং শহরের গোড়াপত্তন ও উন্নয়নে বাঙালিদের অন্যতম অবদান রয়েছে, এই ধরনের ক্রমাগত হিংসায় সেই রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ বাঙালি বাসিন্দা বাধ্য হয়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। মেঘালয়ের যে সরকারি চাকরিতে বাঙালিদের যোগদান একসময় ষাট শতাংশ ছিল, সেখানে সরকারি নিয়মের বেড়াজালে এখন তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এমনকি অনুপজাতিদের রাজ্যে ব্যাবসা করার অনুমতি দিতেও রাজ্য সরকার অনিচ্ছুক। কিন্তু এরপরও মিছিলের দাবির সাথে সম্পুর্ণ সম্পর্কহীন হওয়া স্বত্বেও নেতাজি এবং স্বামী বিবেকানন্দের মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিত্বের স্ট্যাচু ভাঙা হচ্ছে শুধু তাঁরা অনুপজাতি বা বাঙালি বলে! এরচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কি হতে পারে !
বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক এদিন বলেন যে দেশভাগের শিকার যারা এদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁতে তাঁদের কোন হাত ছিলনা। বিজেপি সরকার মুখে বারবার তাঁদের নিরাপত্তা দেবার অঙ্গীকার করে , কিন্তু কার্যক্ষেত্রে যে তা দিতে যে অক্ষম তাঁর প্রমান মেঘালয়ে বারবার উদ্বাস্তু বাঙালিদের উপর এই ধরনের হিংসা সামলাতে ব্যর্থতা। এছাড়া যে ট্যুরিজম শিল্প থেকে রাজ্যের সিংহভাগ রাজস্ব আদায় হয়, সেই সব ট্যুরিস্ট যানবাহন, বিশেষতঃ আসামের গাড়িচালকদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকারি ব্যার্থতাও দুর্ভাগ্যজনক, যারজন্য আসামের যাত্রীবাহী গাড়ির চালকরা ইতিমধ্যে আন্দোলনে নেমেছেন।
প্রদীপ দত্তরায় এদিন বলেন যে তাঁরা আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কাছে আবেদন জানাচ্ছেন যে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয় তা মেঘালয় সরকারের সাথে আলোচনাক্রমে নিশ্চিত করতে হবে। এবং এরজন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ গ্রহণ মেঘালয় সরকারকে বাধ্য করতে হবে। একই সাথে এদিনের ঘটনায় যারা জড়িত তাঁরা এবং সংস্থার নেতৃবৃন্দের কঠোর শাস্তির ব্যাবস্থা করতে হবে।
একইসঙ্গে তিনি বলেন যে মেঘালয়ে অনুপজাতি এবং বহিরাগতদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারও দায়বদ্ধ। কারণ মেঘালয় ভারতেরই একটি অঙ্গরাজ্য। তাই প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিও জানাচ্ছেন তাঁরা।
বিডিএফ এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন। ছবি শিলং পুলিশ বাজার
Comments
Post a Comment