আজও সাফাই কর্মীদের দূষিত নর্দমা সাফ করতে হচ্ছে

আইনে নিষিদ্ধ, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশও রয়েছে। তবুও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও সাফাইকর্মীদের বিষাক্ত নর্দমা ও সেপটিক ট্যাঙ্কে নামতে হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। ২০২৬ সালের মাত্র পাঁচ মাসে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যুর দাবি ঘিরে ফের সামনে এসেছে এই কঠিন বাস্তব।

----

ভারতে নর্দমা, পয়ঃপ্রণালী, সেপটিক ট্যাঙ্ক ও অন্যান্য বদ্ধ স্যানিটেশন স্থানে পরিষ্কার করার সময় সাফাইকর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা এখনও উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। দলিত আদিবাসী শক্তি অধিকার মঞ্চের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন—মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে দেশে অন্তত ৫৫ জন সাফাইকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, আইনগত নিষেধাজ্ঞা এবং সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বহু জায়গায় এখনও মানুষকেই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বিষাক্ত নর্দমা ও সেপটিক ট্যাঙ্কে নামানো হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ মাসের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা মাসভিত্তিকভাবে ছিল ফেব্রুয়ারিতে ১ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ১০ জন, মে মাসে ৬ জন এবং জুনে সর্বাধিক ১৮ জন। সংগঠনের দাবি, সরকারি স্তরে বহুবার বলা হয়েছে যে এই বিপজ্জনক প্রথা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সেই দাবির সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তাদের অভিযোগ, এই মৃত্যুর অনেকগুলিকেই সাফাইকর্মীর মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত না করে কর্মস্থলের দুর্ঘটনা বা বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধজনিত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো হয়, ফলে দায় নির্ধারণ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও ফাঁক থেকে যায়।

জুন মাসে একাধিক রাজ্যে এমন মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসে। গুজরাটের সুরাটে চারজন, কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে চারজন, পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় তিনজন, হরিয়ানার ফরিদাবাদে তিনজন, দিল্লির মুন্ডকা শিল্পাঞ্চলে তিনজন এবং উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে একজন সাফাইকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মীদের অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা, গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র, শ্বাস নেওয়ার সুরক্ষা সরঞ্জাম, নিরাপত্তা বেল্ট, সুরক্ষামূলক পোশাক কিংবা জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা ছাড়াই বদ্ধ স্থানে নামানো হয়েছিল।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির একটি ঘটেছে ২৬ জুন দিল্লির মুন্ডকা এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সেপটিক ট্যাঙ্কে প্রথমে একজন কর্মী নামার পর বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁকে বাঁচাতে পরপর আরও দু'জন কর্মী ট্যাঙ্কে নামেন।

কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরাও অচেতন হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, কেন এখনও বদ্ধ স্যানিটেশন স্থানে মানুষের পরিবর্তে সম্পূর্ণ যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে না।

এই প্রতিবেদন এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ—এই ছয়টি মহানগরে হাতে নেমে নর্দমা ও পয়ঃপ্রণালী পরিষ্কার করার প্রথা সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত নিরাপদ ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করার ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি দেশে ২০১৩ সাল থেকেই হাতে মল পরিষ্কার ও বিপজ্জনকভাবে নর্দমা বা সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ আইনত নিষিদ্ধ। 

তবুও সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান দেখিয়ে দলিত আদিবাসী শক্তি অধিকার মঞ্চের দাবি, ঠিকাদারি ব্যবস্থার গাফিলতি, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক বৈষম্যের কারণে এখনও বহু সাফাইকর্মী প্রতিদিন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

#India #ManualScavenging #SanitationWorkers #HumanRights #SocialJustice #NewsUpdate

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বে আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রাথ নাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন