জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা ইতিহাসের পাতা থেকে
জগন্নাথদেবের🙏🙏 স্নান যাত্রা: ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য উৎসব-
স্নান যাত্রা, যাকে দেব স্নান পূর্ণিমা বলা হয়, তা ওড়িশার পুরীর জগন্নাথদেবের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এটি হিন্দু ক্যালেন্ডারের জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (সাধারণত জুন মাসে) পালিত হয়। এই দিনটি হলো ভগবান জগন্নাথ🙏🙏 বলভদ্র🙏🙏 সুভদ্রা🙏🙏 ও সুদর্শন চক্রের একটি মহা-স্নানের অনুষ্ঠান, যেখানে দেবতারা জনসমক্ষে আসেন।
স্নান যাত্রার উৎপত্তি:
স্নান যাত্রার উল্লেখ প্রাচীন স্কন্দ পুরাণ-এ পাওয়া যায়। বলা হয়, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন যিনি প্রথম কাঠের মূর্তি নির্মাণ ও প্রতিষ্টা করেন, তিনিই এই স্নান উৎসব শুরু করেছিলেন। একটি কাহিনী অনুসারে, ভগবান জগন্নাথ ইচ্ছা প্রকাশ করেন যে তিনি প্রতি বছর একবার স্নান করে জনসমক্ষে আসবেন, যাতে এমন ভক্তরাও তাঁর দর্শন পেতে পারেন, যাঁরা মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারেন না। তাই আজও এই ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে।
রীতিনীতি ও তাদের তাৎপর্য:
স্নান পূর্ণিমার দিনে, দেবতাদের মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে পাহান্ডি নামক একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে স্নান বেদি-তে আনা হয়। এই স্নান বেদি মূল মন্দিরের বাইরে অবস্থিত, যাতে হাজার হাজার ভক্ত দেবতাদের স্নান দর্শন করতে পারেন।
এই মঞ্চে দেবতাদের ১০৮টি পবিত্র জলপাত্র দ্বারা স্নান করানো হয়। এই জল সোনা কুয়া (স্বর্ণ কূপ) থেকে আনা হয়, এবং তাতে চন্দন, হলুদ, তুলসী, গুল্ম, ফুল ও ভেষজ উপাদান মেশানো হয়। এই স্নান শুধুমাত্র শারীরিক নয়, এটি আত্মিক শুদ্ধির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
হাতি বেশ (গজবেশ) ও লীলা:
স্নান অনুষ্ঠান শেষে, ভগবান জগন্নাথ ও বলরামকে হাতি বেশে সাজানো হয়, যাকে হাতি বেশা বা গজানন বেশ বলা হয়। এটি গণেশরূপ ধারণের প্রতীক, যা বৈষ্ণব ও শৈব সংস্কৃতির সম্মিলনের প্রতীক এবং জগন্নাথ পূজার আদিবাসী শিকড়কে সম্মান জানানোর উপায় 🙏🌹🙏🌹🙏
Comments
Post a Comment