যোগ্যতার সব মাপকাঠি পেরোলেও শিলাদিত্য দেব কে মন্ত্রিত্ব না দিয়ে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মানুষ কে বঞ্চিত করা হল

রাজ্য মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ : উপেক্ষিত থেকে গেলো ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালী-হিন্দু জন-প্রতিনিধি: কেবল ভোট বেংকে পরিণত!
-------------------------------------------
সঞ্জিত সরকার,হোজাই, ১০জুন: গত ৫ই জুন, "বিশ্ব পরিবেশ দিবস"-এর দিন রাজ্যে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর ড: হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁর দ্বিতীয় মন্ত্রী সভার সম্প্রসারণের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। রাজ্য জুড়েই সচেতন মানুষ উৎকণ্ঠায় ছিলেন যে ১০২ জন ( ৮২+১০+১০) বিধায়কদের মধ্যে কার কপালে পড়বে "রাজ তিলক"? অর্থাৎ "মন্ত্রীত্ব"৷  সেই দৃশ্য দেখার জন্যে ছিলো বহু জল্পনা কল্পনা। কোন সম্প্রদায়ের কত জন এবং কে কে মন্ত্রীত্ব নামক আলাউদ্দিনের "অলৌকিক প্রদীপ"-এর অধিকারী হবেন। সেই বিষয়ে সম্মানীয় বিধায়কগণ ও তাঁদের সমর্থকগণ রঙিন স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। সকলকে চমকে দিয়ে এমন কি বিজেপি নেতা কর্মী দেরও চমকে দিয়ে ড: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এমন একটি মন্ত্রীসভা গড়লেন যা দেখে প্রায় হতভম্ব অসম বিজেপির বৃহত্তর পরিবারও সম্ভবতঃ । হতাশ অসমের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষিক জনগোষ্ঠী  "হিন্দু-বাঙালি" সম্প্রদায়ও- যাঁদের কাঁধে ভর করে বিজেপি আজ রাজ্যের ক্ষমতায়। হিন্দু বাঙালির অন্য নাম"অন্ধ ভক্ত।" তাঁদের আশা ছিলো ৪৫লক্ষাধিক "হিন্দু-বাঙালী" বসবাস স্থল ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় তাঁদের (হিন্দু-বাঙালির)"হার্টথ্রব" ৬৩নং হোজাই বিধানসভা কেন্দ্রের "দৌর্দন্ডপ্রতাপ" বিধায়ক  শিলাদিত্য দেব-কে এবার হয়ত  "মন্ত্রী"পদে আসীন করে ড: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৪৫লক্ষাধিক "হিন্দু-বাঙালী" বসবাস স্থল বাঙালি-হিন্দুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ করবেন। কিন্তু,মূখ্যমন্ত্রী বাঙালির আশায় জল ঢেলে দিলেন। হতাশ করলেন ৷ তাই ,দেখে নেওয়া যাক যারা "মন্ত্রীসভা"-তে জায়গা পেলেন এখন তাঁদের স্থান কোথায়?  রাজনৈতিক অলিন্দে গগন চুম্বী আলোচনা উঠেছিলো প্রবীণ কংগ্রেসি নবীন বিজেপি নেতা সদ্য প্রাক্তন সাংসদ প্রদ্যোৎ বরদলৈ এবং এই সেইদিনের অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নবীন বিজেপি ভূপেন বরা-দের নিয়ে ৷ আলোচনা উঠেছিলো  রাজদীপ রায়, রাজদীপ গোয়ালা , রূপক শর্মা, হিতেন গোস্বামী-দের নিয়েও । আলোচনায় অতি অবশ্যই ছিলেন রাজ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বৃহ্মপুত্র উপত্যকার  বাঙালি-হিন্দুদের অবিসংবাদীত নেতা তথা তুর্কি হিন্দুত্ব বাদী ভোট কেচার "ফায়ারব্র্যান্ড" নেতা তথা হোজাইর বিধায়ক শিলাদিত্য দেবও। কিন্তু এঁদের কপালে মন্ত্রীত্বের শিকে ছিঁড়ল না। তাঁদের পক্ষে যাঁরা গলা ফাটিয়েছিলেন তাঁরা হেরে গেলেন। তাঁদের কাছে দিল্লী দূর অস্তই থেকে গেলো। এবারের মন্ত্রীত্বের দৌড়ে অন্যতম কালো ঘোড়া আবক্ষ দুর্নীতির গুরুতরভাবে অভিযুক্ত অসম বিধানসভা'র সদ্য প্রাক্তন অধ্যক্ষ  বিশ্বজিত দৈমারী। নীলিমা দেবী ও কোচ রাজবংশী নেতা অশ্বিনী রায় সরকারও কালো ঘোড়ার সওয়ারি হয়ে বাজিমাত করলেন। এঁদেরকে মন্ত্রীত্বের শপথ পড়তে দেখে সবাই অবাক, অবাক সম্ভবতঃ  বিজেপি পরিবারও। বিজেপিকে অসমের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে গিয়ে বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ৪৫লক্ষাধিক হিন্দু-বাঙালিকে নানা রকমের কুটুক্তি শুনতে হয়েছে। এটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের  অনেকেরই জানা আছে ৷ তবু তাঁরা (হিন্দু-বাঙালি)নিরাস হন নি। কুটুক্তির প্রত্যূত্তরে দ্বিগুণ উৎসাহে তাঁরা গেরুয়া দল "বিজেপি"কে আপন করে নিয়েছিলেন। অসমে বাঙালি হিন্দুরাই প্রথম কংগ্রেস বিরোধী ভোটার, অন্ধ ভক্ত বলে অবাঙালিদের কাছে তাঁরাই চিহ্নিত হয়। কিন্তু তৎসত্ত্বেও, কংগ্রেস আমলে নুন্যতম দুই জন হিন্দু বাঙালি-( একজন বরাকের অন্য জন ব্রহ্মপুত্রের) মন্ত্রী সভায় বরাবর স্থান পেয়েছেন। তার উদাহরণ প্রয়াত সাধন রঞ্জণ সরকার এবং দেবেশ চক্রবর্তী, চন্দন সরকার৷প্রয়াত দেবেশ চক্রবর্তী তো অসম বিধানসভা'র "অধ্যক্ষ"র আসনও অলংকৃত করেছিলেন ৷ ইতিহাস বলে হিন্দু-বাঙালি অঞ্চলে ভোট কম পেলেও বাঙালিকে রাজনৈতীক অধিকার দিতে কংগ্রেস কিন্তু কুণ্ঠাবোধ করে নি। কিন্তু, বাঙালির সাধের দল, 'যুগদ্রষ্টা' প্রয়াত শ্যামা প্রশাদ মুখার্জির হাতে গড়া দল "বিজেপি"র আমলে শাসন ক্ষমতার অলিন্দে প্রবেশ অধিকার থেকে বারবার বঞ্চিত বৃহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালি-হিন্দু ৷ যদিও জন সংখ্যার নিরীখে তাঁরা দ্বিতীয় বৃহত্তম। রাজ্যে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটে হিন্দু বাঙালির অংশীদারত্ব ৯০%। যেখানেই বাঙালি-হিন্দু, সেখানেই বিজেপি। অন্য দিকে মাত্র পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার মারোয়ারী সম্প্রদায়ও অবলীলায় ড:হিমন্ত বিশ্ব শর্মা'র মন্ত্রী সভায় স্থান পেয়ে আসছে। কিন্তু প্রশ্ন,কেন? বিজেপির অভিন্ন হৃদয় বন্ধু "কর্পোরেট হাউস"কে সন্তুষ্ট করতেই কি অশোক সিংহাল-কে মন্ত্রীত্বে স্থান? তাঁর বিরুদ্ধে অসমিয়া মানুষের ক্ষোভের কোনো মুল্য নেই বিজেপি র কাছে?ভোট বেঙ্কের কথা তোয়াক্কা না করেই কি মাত্র ১০ লক্ষ জনসংখ্যার হিন্দি ভাষী বলে দিল্লীতে পরিচয় দিয়ে অসমে চা-জনজাতির মোড়কে বিধায়ক হইয়া "কৌশিক রাই" কে কি হিন্দি ভাষী তোষণের জন্য মন্ত্রীত্বের আসন দান করা? কারন,বিজেপি র হিন্দুত্ব মানেই ত হিন্দিত্ব। এটাই কি?
‎ এবারের মন্ত্রী সভাকে লক্ষ করলে বোঝা যায় যে, যে সম্প্রদায় বিজেপি কে ক্ষমতা চ্যুত করতে দম দিতে পারে মন্ত্রীত্বে সেই সম্প্রদায়ই প্রাধান্য পেয়েছে। বেচারা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালি-হিন্দু !বেচেঁ  থাকার লড়াইয়ে, টিকে থাকার লড়াইয়ে হাবু ডুবু খাচ্ছে তাঁরা কি আর করবে? তাঁরা তো 'লালি পপ'-তেই সন্তুষ্ট। কিন্তু, রাজ্যের কর্মদক্ষ মুখ্যমন্ত্রী ড: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তথা বিজেপির অন্তত: জানা দরকার ছিল সমগ্র বিষয়টি । তাই বাঙালি-হিন্দু কবি গেয়েছেন,"মা, আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে, আমরা প্রতিবাদ করতে জানি, শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি।" বঞ্চনার শিকার হতে হতে বাঙালি-হিন্দু যদি রাস্তায় নেমে "অসম নাগরিক মঞ্চ"-এর সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে শুরু করে,বাঙালি-হিন্দুদের জন্য "স্বশাসিত উপগ্রহীয় পরিষদ" ( স্যাটেলাইট অটোনমাস কাউন্সিল" চাই, জন সংখ্যা অনুপাতে বাঙালি হিন্দুর জন্য উচ্চ শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে সংরক্ষন চাই, বাংলা ভাষাকে অসমের দ্বিতীয় রাজ্যিক ভাষার মর্যাদা চাই - তখন কি হবে? রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল তাই মনে করছেন যে,বঞ্চনার ক্ষোভ পঞ্জিভূত হয়ে যাতে রাস্তায় নামতে না হয় গেরুয়া দল বিজেপির উচিৎ সে দিকে নজর দেওয়া। মনে রাখতে হবে বাঙালি পরিবর্তন কামি জাতি। তার জলজ্যান্ত উদাহরন - পশ্চিম বঙ্গ।

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বে আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রাথ নাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন