প্লীজ সেন্ড ফটোগ্রাফ বিশাখা পারেখ আজ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে

২০২৫ সালের আগস্টে মুম্বইয়ের ৬৮ বছরের বিশাখা পারেখকে ব্রেন ডেড ঘোষণা করা হয়েছিল। শোকের সেই মুহূর্তে তাঁর পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় অঙ্গদানের। দুটি কিডনি, লিভার, কর্নিয়া ও হাড় দানের মাধ্যমে বহু মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালান তিনি। এক বছর পর সেই গল্প আবার ভাইরাল, কারণ মৃত্যুর পরও একজন মানুষ কতটা বেঁচে থাকতে পারেন, তার এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন বিশাখা।

----

মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একজন মানুষ কী রেখে যেতে পারেন? স্মৃতি, না কি আরও কিছু? মুম্বইয়ের বোরিভলির ৬৮ বছরের বিশাখা পারেখ যেন সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গিয়েছেন নিজের জীবন দিয়েই। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে তাঁর পরিবারের নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত আজও বহু মানুষকে অঙ্গদানের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই গল্প আবার নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে, কারণ মৃত্যুর পরও তাঁর অঙ্গ ও টিস্যু মিলিয়ে অন্তত ১০ জন মানুষ উপকৃত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সবকিছুর শুরু পায়ের কাফে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা থেকে। সেই কারণেই বিশাখা পারেখকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসার মধ্যেই তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ব্রেন ডেড ঘোষণা করা হয়। পরিবারের সামনে তখন এক কঠিন মুহূর্ত। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শোকের মধ্যে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, তাঁর অঙ্গ অন্য মানুষের শরীরে নতুন জীবন পাবে কি না।

সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর ৩২ বছরের মেয়ে রিদ্ধি পারেখের। রিদ্ধি পরে জানান, প্রায় দু’বছর আগে তিনি নিজেই অঙ্গদানের অঙ্গীকারপত্রে সই করেছিলেন। তখন তাঁর মা খুব আনন্দ পেয়েছিলেন। সেই স্মৃতিই তাঁকে শক্তি দেয়। তাঁর মনে হয়েছিল, মা বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই চাইতেন অন্যের উপকার করতে। তাই পরিবারের সম্মতিতে অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে সিদ্ধান্ত নেওয়াই শেষ কথা ছিল না। যে হাসপাতালে বিশাখা পারেখ ভর্তি ছিলেন, সেখানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অনুমোদন ছিল না। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল। সেই সময় রিদ্ধি তাঁর কাজিন প্রীতি গান্ধীর সাহায্য নেন। প্রীতি একটি অঙ্গদান সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর উদ্যোগে অঙ্গ প্রতিস্থাপন সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং দ্রুত বিশাখা পারেখকে মুম্বইয়ের একটি অনুমোদিত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে তাঁর দুটি কিডনি, একটি লিভার, দুটি কর্নিয়া এবং হাড় দান করা হয়। ২০২৫ সালে প্রকাশিত প্রথম দিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁর কিডনি ও লিভার তিনজন গুরুতর অসুস্থ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পরে আরও কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর্নিয়া ও হাড়সহ বিভিন্ন টিস্যু দানের ফলে মোট ১০ জন মানুষ তাঁর এই সিদ্ধান্তের সুফল পেয়েছেন। যদিও সেই ১০ জনের পৃথক পরিচয় বা চিকিৎসার বিশদ তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

রিদ্ধি পারেখ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মাকে হারানোর কষ্ট কখনও কমবে না। কিন্তু এই অনুভূতি তাঁকে সান্ত্বনা দেয় যে, তাঁর মা আজও কোথাও না কোথাও বেঁচে আছেন। হয়তো কারও চোখের আলো হয়ে, কারও শরীরে নতুন শক্তি হয়ে, অথবা এমন কারও জীবনে আশার কারণ হয়ে, যাকে তিনি কোনও দিন চিনতেনই না।

২০২৫ সালের আগস্টে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা ২০২৬ সালে আবার নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি শুধু একটি অঙ্গদানের গল্প নয়, বরং এমন এক মায়ের গল্প, যিনি নিজের শেষ উপহার দিয়ে শোককে বদলে দিয়েছেন আশায়।

#OrganDonation #Humanity #Mumbai #InspiringStory #GiftOfLife #Hope

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বে আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রাথ নাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে" নয়া ঠাহর "শারদ সংখ্যা প্রকাশিত হল কান্দি থেকে

অসমের বিশিষ্ট সাংবাদিক কুন্তল চক্রবর্তী চলে গেলেন