বাংলার দিকে তাকিয়ে বিশ্বর বাঙালিরা
বাংলার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের বাঙালিরা
হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারবে কি বর্তমান সরকার?
প্রদীপ দত্ত রায়
এককালে ভারতের শিল্প প্রধান অঞ্চল ছিল বাংলা। এখানকার কলকারখানায় উৎপাদিত সামগ্রী সারা ভারতে বাজারজাত হত। ব্রিটিশ শাসন আমলে দেশের রাজধানী ছিল কলকাতা। তাই এর আশপাশ অঞ্চলে শিল্প গড়ে তুলেছিল ব্রিটিশরা। কলকারখানায় কাজ করার জন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে জুটে ছিল কলকাতা সংলগ্ন এলাকায়। কলকাতা রুপ লাভ করেছিল মহানগরীর। স্বাধীনতার পর একদশক এই অবস্থা থাকলেও তারপর বাংলার প্রতি কেন্দ্রের অনীহা বাড়তে থাকে। কেন্দ্রের নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলার নেতৃত্বের বিরোধ ঘটায় বাংলায় মানুষের মধ্যেও এর প্রভাব পড়ে। ফলে কংগ্রেস সরকারের পতন ঘটিয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয় বাংলায়। কেন্দ্রের অমনোযোগী মনোভাবের কারণে শিল্পের উপর অশুভ ছায়া পড়তে শুরু করে। কেন্দ্রের উদ্যোগে অন্যান্য রাজ্যে শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয় এবং বাংলার শিল্প পরিকাঠামোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। শিল্প সমৃদ্ধ একটি রাজ্য ক্রমেই উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে পড়ে এবং বেকার সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করে। কেন্দ্রের বঞ্চনার এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করেই কংগ্রেস জমানার অবসান ঘটিয়ে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। আর ৩৪ বছরের বামফ্রন্টের শাসনকালে শিল্প আরও বেশি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন, ধর্মঘট, কলকারখানা মালিকদের কারখানা সচল রাখার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শিল্প সহায়ক নীতিতে বামপন্থার বিশ্বাসের অভাব কলকারখানা মালিকদের সামনে বিকল্প ভাবনার পথ খুলে দেয়। সরকারি অধীনস্থ কারখানাগুলো ধুঁকতে থাকে । শুধুমাত্র শ্রমিক স্বার্থের দিকে নজর দিয়ে গোটা শিল্প পরিবেশকেই নষ্ট করে দেওয়া হয়। এর ফলে বন্ধ হয়ে যায় চট শিল্প। বাংলা থেকে গুজরাটে পাড়ি দেয় গহনা এবং বস্ত্রশিল্প। একের পর এক কাপড় মিল বন্ধ হয় এবং গুজরাটে গড়ে ওঠে কাপড়ের মিল। ওষুধ শিল্প অন্যান্য রাজ্যে শ্রমিক সমস্যা নেই বলেই গড়ে ওঠে এবং বাংলার ওষুধ শিল্প ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। বাম জমানায় সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তুমুল আন্দোলন করে এই শিল্প সম্ভাবনাকে অংকুরেই বিনাশ করে দেওয়া হয়। কৃষি জমি রক্ষার নামে এই আন্দোলন যে আসলে শিল্প বিমুখ ছিল এবং ভুল ছিল এটা এখন প্রমাণ হচ্ছে।
Comments
Post a Comment