বিশ্বের আধ্যাত্মিক জীবনে মা কামাখ্যা উপবাসে থাকেন , ঋতুমতী হন স্বর্গীয় অনুভূতি , কেন্দ্র করে মেলা
অমল গুপ্ত ,২১ মে ,কান্দি জেল রোড ,মুর্শিদাবাদ ওয়েস্ট বেঙ্গল : অসমের নীলাচল পাহাড়ে তলদেশে গুয়াহাটি মহানগরে বহু বছর থেকে মা কামাখ্যা আশীর্বাদ নিয়ে জীবনের শেষ বেলায় পৌঁছিয়ে গেছি। গুয়াহাটি উপকন্ঠে রাণী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছোট্ট কটেজ বানিয়েছি। সেই কুঠির থেকে নীলাচল পাহাড় কাছেই। অসমের রানী এলিফেন্ট করিডর হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত ,বহু বুনো হাতি আছে। কাছেই গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দিপার বিল পরিযায়ী পাখিদের মেলা বসে শীত কালে।বিশাল জলাশয় ইরানের রামসার সাইট হিসাবে অনুমোদন প্রাপ্ত। কয়েক হাজার বর্ণময় পাখিদের বিচিত্র সমাহার , জৈব বৈচিত্র্যের উর্বর ক্ষেত্র , নানা প্রজাতির পাখি কীটপতঙ্গ মাছ, সাপ, প্রজাপতি ,ব্যাং , এর প্রধান আকর্ষণ । মিষ্টি জল , এই রাজ্যে বড় অভাব। পাশেই রাণী সংরক্ষিত বনাঞ্চল , শিলং পাহাড় অপরদিকে অসমের বনাঞ্চল মাঝের প্রায়" নো ম্যান ল্যান্ড" ফাঁকা জায়গায় আমার কটেজ , ৪০ বছর পর জন্মভিটা কান্দি তে ভোট দিতে এসেছিলাম আবার নীলাচল পাহাড়ে ফিরে যাবো। কাল থেকে নীলাচল পাহাড় বৃষ্টির জলে ভাসবে অম্বু মানে জল জলের স্রোত উপবাসী মা কামাখ্যা কে পবিত্র করে তোলে চারদিন অপবিত্র থাকেন মা। মাকে পবিত্র করতে বৃষ্টির জলধারা সবুজ বৃষ্টি স্নাত পাহাড় কে আবার পবিত্র করে তোলে।লাখ লাখ ভক্ত বিশেষ করে হিন্দু বিধবা মহিলা মন্দির দরজায় অপেক্ষা করেন চারদিন। বৃষ্টির মধ্যে লাখ লাখ ভক্ত প্রাণ ধর্মপ্রাণ মানুষ নীলাচল পাহাড়ে ভিড় জমায়। অসম সরকার ভক্তদের থাকা খাওয়া চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করে থাকে। এবার ও ব্যতিক্রম হবে না।বিজেপি হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকার নীলাচল পাহাড়ে উপস্থিত ভক্ত দের সামগ্রিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পাহাড়ে যান। চারদিন পর মন্দির দ্বার খুলবে ২৬ মে ।২২ মে থেকে ২৬ জুন মেলা বসবে।( ছবি রাণী শংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিহু উৎসবে সূর্য ডুবছে মাঠে বিহু মহড়া চলছে প্রতিবেদকের তোলা ছবি।) এই মেলায় পশ্চিমবঙ্গের ত্রিপুরার বিধবা লাখে লাখে ভিড় জমায় সবাই বাংলাভাষী বলে মেলার ব্যবস্থায় বাংলা ভাষা কে সর্বত্র ব্যবহার করা হয়।সব
পাণ্ডা, পুরোহিত বাংলা ভাষা জানেন। হারো অসুবিধা হয়না। দেশের অন্যা ধর্মস্থানের মত দালাল দের উৎপাত নেই বললে চলে। । দেশের তীর্থ চূড়া মনী বলে খ্যাত মন্দির দর্শন সহজ কথা নয়। বহু প্রতিকূলতা কে মেনে মন্দির দর্শন মা কে দর্শন আমরা ভাগ্যে সেই পূর্ণ অর্জন হয়েছে। মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ । অসমিয়া সমাজের সঙ্গে বাঙালিরা চারটি দিন নিয়ম নীতি মেনে ভক্তি ভরে পালন করেন। কামাখ্যা মন্দিরে সঙ্গে রাজ্যের বিশেষ করে গুয়াহাটি মন্দির গুলিতে চারদিন দ্বার বন্ধ রাখা হয়। প্রসঙ্গত ভারতের রাণী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিপন্ন প্রজাতির শকুন গর্ভধারণ ,প্রতিপালন করার কেন্দ্র আছে। দেখে এসেছি ১৯০ টি শকুন পালন করা হচ্ছে। দেশের ৫ কোটি শকুন শেষ হয়েগেছে মানুষের ভুলে। গবাদি পশু রোগগ্রস্ত হলে এক বিষাক্ত ঔষধ দেওয়া হয় সেই ঔষধ দেশের ৯৯ শতাংশ শকুন নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। যারা সমাজের পচা মরা খেয়ে সব পরিষ্কার করে ঝাড়ুদার হিসাবে কাজ করে তারা আজ নিশ্চিহ্ন। পরিবেশ ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে। মুক্ত আকাশ আর শুকুন উড়ে না। যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া উড়ে।
Comments
Post a Comment