কান্দি কর্ণ সুবর্ণ কেন্দ্রে জমায়েত
কর্ণ সুবর্ণ প্রত্ন ক্ষেত্র :-
শ্রী সঞ্জয় কুমার মিশ্র
মুর্শিদাবাদ মানে আমরা প্রায় সবাই জানি নবাবের দেশ, নবাবি আমল, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সূর্য্য অস্ত যাওয়া। সেসব ইতিহাস আজ থেকে বড়জোর তিনশো বছর আগে । কিন্তু আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে ভারতবর্ষের এই রাঢ় বঙ্গে বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার কর্ণ সুবর্ণে স্বাধীন একজন হিন্দু রাজা রাজত্ব করেছিলেন তার নাম ছিল শশাঙ্ক। নামটির সঙ্গে পরিচয় থাকলেও ইতিহাসে সেভাবে ঠাঁই পায় নি এমন কি তাঁর ছবিও দেখা যায় না !
তাই ইতিহাস প্রসিদ্ধ এই মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজা শশাঙ্ক কে কেন্দ্র করে কর্ণ সুবর্ণের এই প্রত্ন ক্ষেত্র টি যদি পশ্চিম বঙ্গ সরকার তথা ভারত সরকারের মাধ্যমে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে এটিকে একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা যায় তার জন্য ব্রতী হয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট পর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ ( ইনটাক ) , মুর্শিদাবাদ চ্যাপ্টারের সদস্যরা। গত ১০ ই মে প্রত্ন ক্ষেত্র এলাকার ভিতর শিল্পীদ্বারা কল্পনা প্রসূত অঙ্কিত রাজা শশাঙ্কর ছবি তে মাল্যদান করে করে স্থানীয় এলাকাবাসী কে সচেতন করার জন্য ইনটাক মুর্শিদাবাদ চ্যাপ্টারের সদস্যরা একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেন । আলোচনায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এই এলকাটি প্রচারের আলোয় আনতে হবে । সমগ্র এলাকা টি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া র মাধ্যমে আরোও খনন কার্য্য চালাতে হবে এবং ঠিক কোন্ খানে শশাঙ্কের রাজধানী টি ছিল সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারনা আনতে হবে । বর্তমানে আমরা যে জায়গা টি দেখি সেটি রাজবাড়ী ডাঙ্গা নামে পরিচিত হলেও ওটি আসলে রক্ত মৃত্তিকা বৌদ্ধ বিহার বলেই জানা গিয়েছে। পূর্বে খনন কার্য্য চালাতে গিয়ে যে সমস্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলো পাওয়া গিয়েছে এবং ভবিষ্যতে খনন কার্য্য চালাতে গিয়ে যেগুলো পাওয়া যাবে সেগুলো ওখানেই একটি সংগ্রহশালা নির্মাণ করে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে যাতে বেশী, বেশী করে পর্যটক এখানে আসেন এবং মুর্শিদাবাদ জেলার আর একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে ফলে জেলার আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হবে ।
Comments
Post a Comment