মার্কিন তথা পশ্চিমবঙ্গের কাছে মার্কিন ঘাঁটি ,সঙ্গে মার্কিন বিদেশ সচিব ভারত যাত্রা কি নতুন কিছু সূচনা করছে?
ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের নাকের ডগায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সঙ্গে আরেকটি ঘাঁটিতে যুদ্ধজাহাজ
পালা বদলের সঙ্গেই মার্কো রুবিওর কলকাতা সফর!
মানস বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্টদের ৩৫ বছরের স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমেরিকার পররাষ্ট্র সচিব তথা মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ভারত সফরের অজুহাতে কলকাতায় এসে সদ্য নিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। হঠাৎ আমেরিকার এই তৎপরতার নেপথ্যে ছিল এক ক্রূর রাজনীতি। ২০২৬ এ আবার সরকারে পরিবর্তন আসার সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির আগেই কলকাতায় এলেন আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিও।তিনি কলকাতায় মাদার হাউসে গিয়েছিলেন। এটাই কি সব? গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। ২০১১ পালা বদলের পর সঙ্গে সঙ্গে,এবং ২০২৬ এর পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন প্রতিনিধির এই সফরকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিৎ। ২০২৪ এর আগস্টের কথা মনে করতে হবে।
একটি লোক দেখানো সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবৈধ দখলদারি মহম্মদ ইউনুসের বিদায় হয়েছে।গণতন্ত্র ফিরে এসেছে বলে যারা অতি উৎসাহে "জয় বাংলা" ধ্বনিতে মুখরিত ছিলেন, তারা আজ বুঝতে পেরেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন চাল। মহম্মদ ইউনুসের মতো দালালের ওপর মানুষের ক্ষোভ দমনের জন্য কৌশলে আরেক ঘনিষ্ঠ দালাল তারেক রহমানকে বাংলদেশে পাঠিয়ে গণতন্ত্রের ধ্বজা উড়িয়ে মার্কিন নিয়ন্ত্রণকে আরো মজবুত করা হলো বাংলাদেশে।
অবৈধ সরকারের হয়ে মহম্মদ ইউনুস আমেরিকার সঙ্গে সেন্ট মার্টিন বন্দর নিয়ে যে চুক্তি করেছিলেন, সেটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল বৈধতার প্রশ্নে। অগণতান্ত্রিক সরকারকে নির্বাচনে সরিয়ে দিলেও ইউনূস ঢাকাতেই থেকে গেছেন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির ( বিএনপি) নেতা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ছাড়াই নির্বাচনে জিতে খালি মাঠে গোল করে ক্ষমতা দখল করলেন। এরপর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নামে তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশ্বাস অর্জনের লক্ষ্যে কিছুটা এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে ইউনূসের করা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,
জামাতে ইসলামী নেতা শফিকুর রহমান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বানিজ্য চুক্তির আড়ালে দেশকে তুলে দেওয়া হলো আমেরিকার হাতে।
ডক্টর ইউনূস, তারেক রহমান এবং শফিকুর রহমানের সমঝোতার মাধ্যমে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। দেশের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি, আমদানি রপ্তানি, সামরিক, সীমান্ত, জল-স্থল-আকাশ এমনকি সার্বভৌমত্ব এখন মার্কিনীদের হাতে। চট্টগ্রাম বন্দর সহ দেশের বন্দর গুলোতে থাকবে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ এবং সেন্টমার্টিনে হবে তাদের বহুল প্রত্যাশিত সামরিক ঘাটি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলোও এ সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ থেকে ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক বন্ধু সালাউদ্দিন সোয়েব জানালেন, পাকিস্তানের কবল থেকে বের করে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা প্রকৃতই কবিগুরুর সেই " সোনার বাংলা"তৈরি করার লক্ষ্যে অনেক যোজন এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঘৃণ্য মার্কিন চক্রান্ত তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে পিছন দরজা দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নষ্ট করে নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছে নিজেদের হাতে। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য ৩০ লক্ষ হিন্দু মুসলমান প্রাণ হারিয়েছেন। ৫ লক্ষ মহিলাকে গণধর্ষণ করেছে বর্বর পাক সেনা। আড়াই লক্ষ মহিলাকে গর্ভবতী করেছে। সেই বলিদান আজ ব্যর্থ হয়ে গেছে। আমেরিকার সঙ্গে লড়াই সম্ভব নয়।
ভারত সরকার "র" এর মাধ্যমে সকল তথ্য সংগ্রহ করেছে। আমেরিকা জামাতে ইসলামী ও তারেক রহমানের সরকারকে দিয়ে এবারে ভারতের ভৌগলিক অবস্থানের উপর আঘাত হানতে চেষ্টা করছে। খোলা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা, জিহাদি ও জে এম বি সন্ত্রাসবাদীদের কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলেছে। এব্যাপারে বাংলাদেশের নির্ভীক সাংবাদিক সালাউদ্দিন সোয়েব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ( জে এম বি) র জিহাদী সুলেইমান পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপন করে রয়েছে তৃণমূলের অভিষেক ব্যানার্জীর মদতে।
আর এই গুপ্ত পরিকল্পনার ব্লু প্রিন্ট জানতে পেরেই কেন্দ্রের পরামর্শে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার তৎপর হয়ে উঠেছে। চিকেন নেক কে ইতিমধ্যে ঘিরে ফেলা হয়েছে। সেখানেও বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে।
২০১১-র “পরিবর্তন”-এর ঠিক পরেই ২০১২ সালের মে মাসে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, কলকাতায় এসেছিলেন এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বৈঠক করেছিলেন। এটি ছিল অত্যন্ত আলোচিত কূটনৈতিক সফর।
তখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল—
পশ্চিমবঙ্গে “পরিবর্তন”-এর পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আমেরিকা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে,
বিনিয়োগ, FDI, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছিল,
এবং হিলারি ক্লিনটন প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “৩৪ বছরের বাম শাসন শেষ করার” ভূমিকাকেও প্রশংসা করেছিলেন।
এটি ছিল কলকাতায় কোনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অন্যতম ঐতিহাসিক সফর ছিল।
কয়েকদিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিন্তু কলকাতায় মাদার হাউসে গিয়েছিলেন। কি কি পরিকল্পনা করে গেলেন, সেই সম্পর্কে আমি শুধুমাত্র ন্যারেটিভ লিখতে পারি। আসল খবর তো IB জানে।
যদিও কলকাতা থেকে সোজা দিল্লিতে গিয়ে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তার পর আগ্রা ও জয়পুর সফরেও গিয়েছেন। এই সফরকে শুধু “কূটনৈতিক ভিজিট” নয়, বরং ভারত - প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল, চতুর্দেশীয় জোট, বাণিজ্য, জ্বালানি ও চীন-কেন্দ্রিক বড় স্ট্র্যাটেজিক বার্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগের দিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, তারপর আন্তর্জাতিক বার্তা, এগুলো নিছক কাকতালীয় ভাবলে রাজনীতি বোঝা হয় না।
বিশ্বরাজনীতিতে “সফট পাওয়ার”, ধর্মীয় নেটওয়ার্ক, মানবাধিকার ইস্যু, এনজিও লবি, এগুলো বহুদিন ধরেই জিওপলিটিক্সের অংশ।
বাংলার পরিস্থিতিটাও তাই শুধু আঞ্চলিক রাজনীতি নয়। এখানে সীমান্ত, ডেমোগ্রাফি, অর্থনীতি, ভোটব্যাঙ্ক, আন্তর্জাতিক প্রভাব, ধর্মীয় নেটওয়ার্ক, সব মিলিয়ে একটা জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
ওয়া
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো “সময়”।
অনেকেই ভাবছেন সরকার বদল মানেই সব বদলে যাবে। বাস্তবে কিন্তু সমাজের ভিত বদলাতে দশক লাগে। একটা প্রজন্মের চিন্তাভাবনা পাল্টাতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, মিডিয়া, সিনেমা, সাহিত্য, সবকিছুর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি করতে হয়। বামপন্থীরা এই কাজটাই বছরের পর বছর ধরে খুব সুকৌশলে করেছে।
আগামী দিনের রাজনীতি হবে “ডেটা + ডেমোগ্রাফি + ডিজিটাল ন্যারেটিভ”-এর রাজনীতি।
কারা কোথায় সংখ্যায় বাড়াচ্ছে,
কারা কোন এলাকায় প্রভাব বাড়াচ্ছে,
কারা সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের মানসিকতা গড়ছে— এগুলোই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
এই কারণেই এখন শুধু নির্বাচন জেতা যথেষ্ট নয়। সাংগঠনিক শক্তি, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস, ইতিহাসচর্চা, এবং নিজস্ব বয়ান তৈরি— এই চারটে জিনিস ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কোনো রাজনৈতিক শক্তি টিকে থাকতে পারবে না এটা মাথায় ঢুকিয়ে নিয়ে চলতে হবে।
বাইরে থেকে আক্রমণ ঠেকানো তুলনামূলক ভাবে সহজ। কিন্তু ভিতরে কে ধীরে ধীরে তালার চাবি ঘুরিয়ে দিচ্ছে, সেটা চিনতে না পারলে দুর্গ টিকিয়ে রাখা যায় না।
আমেরিকার কুক্ষিগত পাকিস্তান,বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে ব্যপক জিহাদী, রোহিঙ্গা , বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা রাষ্ট্র করার চক্রান্তের আমেরিকার ডিপ স্টেটের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন চার ভারতীয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও একটি বামপন্থী দল।
ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া:
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল কদিন আগেই পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে সাবধান করে দিয়েছেন। বাড়াবাড়ি করলে মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে। গত পরশু ভারতের সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ভারত বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধ না করলে নিজেরাই চিন্তা করুক তারা ভৌগলিক মানচিত্রে থাকতে চায় কিনা। (লেখকের নিজস্ব বক্তব্য সম্পাদক দায়ী নয়।)
Comments
Post a Comment