বাংলা ভাষার মর্যাদা আর শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে ১৯ মে শিলচর শহরে মহামিছিল
অমল গুপ্ত ,১৯ মে ,কান্দি জেল রোড ,মুর্শিদাবাদ ওয়েস্ট বেঙ্গল : ৬৫ বছরের ব্যবধান স্বাধীন ভারতে বাংলা ভাষা মর্যাদা রক্ষা করা দাবিতে অসমের বরাক উপত্যকার শিলচর শহরে ১১ জন যুবক পুলিশের গুলিতে প্রাণ আহুতি দিলেন। এই ৬৫ বছরের ভাষা শহীদ দের আত্মত্যাগ কে মর্যাদা স্বীকৃতি দেওয়া হল না। বড় লজ্জা বড় পরিতাপের কথা বিজেপি ডাবল ইঞ্জিন সরকার আজও হ্যাঁ আজও স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও নীরব। বরাকের শিলচর স্টেশন কে ভাষা শহীদ স্টেশন নাম করণ পর্যন্ত করা হল না।হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বিতীয় বছর সরকার নানা অঙ্গীকার করে আবার ক্ষমতায় বসলেন। কিন্তু বরাক উপত্যকা মানুষের আত্নসম্মান আত্ন পরিচিতি বাংলা ভাষা কে মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি বলে মনে হল না। এবার বরাক ব্রহ্মপুত্র থেকে কয়েকজন বাঙালি প্রতিনিধি জয়লাভ করেছেন। সংসদ সদস্য ও আছেন। তাদের ভূমিকা কি হবে ? বিজেপি সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ না বরাকের আত্ম পরিচয় বাঙলা ভাষার মর্যাদা কে রক্ষা করা। আমার ,৪০ বছরের সাংবাদিক জীবন সবটাই অসম বিধানসভা কভার করে জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছিয়ে গেছি। বরাকের প্রতিনধি দের কাছ থেকে দেখেছি অধিকাংশ মুখ্যমন্ত্রী অফিসে ঘুরে ঘুরে ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণের দাবি দাওয়া আদায় করা। সার্বিক স্বার্থ ছিল না। শিলচর গুয়াহাটি মহাসড়ক মাত্র ২৯ কিলোমিটার আজও সম্পূর্ণ হলনা। শিলচর ভাষা শহীদ স্টেশন ভাষা শহীদ স্টেশন করার সবুজ সংকেত ইতিমধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ দিয়েছে। দিশপুর ফাইল পড়ে আছে। বরাকের জনপ্রতিদের সৎসাহস নেই হিম্মত নেই সেই ফাইল নিয়ে মুখ্য মন্ত্রীর মুখোমুখি হবার। বরাকের এক সাংবাদিক বন্ধু অরিজিৎ আদিত্য কে বলতে শুনলাম আজকাল অসমীয়া ভাষাতে বিজ্ঞাপন ছাপা হচ্ছে। তাকে ডিসপুরের কাছে আত্মসমর্পণ বলা যাবে না? অতীন দাসের মত বিশিষ্ট সাংবাদিক অতীন দাসের কাছে বরাকের আজও অনেক কিছু চাওয়ার আছে। আজ ,৬৫ বছর আগের ১৯৫২ সালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে ৫জন মুসলিম যুবক বাংলা ভাষার জন্যে প্রাণ আহুতি দেন।তাদের নিয়ে কলকাতা বেশি মাতা মাতি। তৃণমূল সরকার তো বরাকের আত্মত্যাগ ভুলেই গিয়েছিল। তৃণমূল সাংসদ বরাকের আইকন কন্যা সংসদ সুস্মিতা দেব কি জানেন ডিসপুরে ভাষাশহীদ ফাইল পড়ে আছে? ৫০ বছর পর এবার বঙ্গে বিজেপি সরকার বরাক বাসীর ১৯ মে ভাষা জননী চেতনা আত্মপরিচয় মর্যাদা রক্ষায় কিছু করবে কি? অসম বিধানসভায় এজিপি আমলে এক সদস্য বাঙালি বিরোধী অভিযোগ করে বলেন "বাঙালিদের জন্ম ফুট পাথে" বাঙালি অধ্যক্ষ দেবেশ চক্রবর্তী কে আক্রমণ করে মারতে এসেছিল।উনি পালিয়ে বাঁচলেন। পরদিন দেবেশবাবু ধুতি পাঞ্জাবি পড়ে বাঙালি সেজে প্রতিবাদ করেন। আজ বহু দিনের বহু বছরের কথা আজও কি বাঙালি নেতাজি ক্ষুদিরাম রক্তের বাঙালি উপযুক্ত মর্যাদা পাচ্ছে। এই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রেকর্ড বক্তব্য ছিল বরাকের ভাষা শহীদদের উপযুক্ত মর্যাদা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বরাকের একাংশ বাংলা দৈনিক মালিক পক্ষ দিসপুর বিজ্ঞাপনের লোভে দিশপুরে ছোটাছুটি করেন। ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে। দিস পুর বরাক কে গুরুত্ব দেইনা। বরাকের সাংবাদিকরা যদি সৎ ভাবে সাংবাদিকতা করতেন তাঁর মহাসড়কের মাত্র ২৯ মিলিমিটার কাজ আটকানোর সৎসাহস দেখাতে পারত বিজেপি সরকার। বাংলা ভাষা মর্যাদা রক্ষা ভাষা শহীদদের সম্মান রক্ষা আপোষ করবেন না এই আশা করতে পারি না ? আজ শিলচর শহরে বাংলা ভাষা মর্যাদার দাবিতে মহা মিছিল বেরিয়েছে। কলকাতা, গুয়াহাটির মত শিলচর শহরে অভিভাবকরা সন্তানদের বাংলা মাধ্যমে বিদ্যালয়ের না পাঠিয়ে ইংরাজি মাধ্যম বিদ্যালয় পাঠাচ্ছেন। আর সবার হাতে মোবাইল আছেই। মোবাইল আবিষ্কারক মাটিন কুপার বিশ্ববাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন সে মোবাইল আবিষ্কার করে ভুল করেছেন। আজ ৮ থেকে ৮০ সবার হাতে ২৪ ঘণ্টা যুব প্রজন্ম ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে।
Comments
Post a Comment