, ভোট চিত্র বদলেছে দেওয়াল লিখন বৈচিত্র্য এসেছে, প্রদীপ দত্ত রায় : শিলচর

আগেকার দিনে ভোটের সময় খুব সুন্দর-সুন্দর দেওয়াল লিখন হত। ছোট-ছোট দু'চার লাইনের ছড়া কাটত রাজনৈতিক দলগুলি। অতীতের পাতা থেকে সেরকমই কয়েকটি ছড়া তুলে আনা হল, আশা করি মজা পাবেন ।

কংগ্রেসের তখন জোড়া বলদ চিহ্ন, কংগ্রেস ছড়া কাটল:

"ভোট দেবেন কোথায়/জোড়া বলদ যেথায়"।

সিপিএম উত্তর দিল:

"জোড়া বলদের দুধ নেই/কংগ্রেসের ভোট নেই"। এবং
"ভোট দিন বাঁচতে/তারা হাতুড়ি কাস্তে"।

নাছোড় কংগ্রেসও। তারা লিখল:

"চীনের চিহ্ন কাস্তে হাতুড়ি/পাকিস্তানের তারা/এখনও কি বলতে হবে দেশের শত্রু কারা ?"

ব্যক্তি আক্রমণও টুকটাক ভালই চলত। সিপিএম লিখল:

"দু'আনা সের বেগুন কিনে/মন হল প্রফুল্ল/বাড়িতে এসে দেখি সব কানা অতুল্য"।

"ইন্দিরা মাসি বাজায় কাঁসি/প্রফুল্ল বাজায় ঢোল/আয় অতুল্য ভাত খাবি আয়/কানা বেগুনের ঝোল"।

কংগ্রেস প্যারডি করে ছড়া কাটল:

"অনিলা মাসি বাজায় কাঁসি/জ্যোতি বাজায় ঢোল/আয় প্রমোদ ভাত খাবি আয়/মাগুর মাছের ঝোল"।

ইতোমধ্যে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক হয়েছে 'হাত'। সিপিএম বিদ্রূপ করল:

"শুনলেও হাসি পায়/কাটা হাতে ভোট চায়"।

কংগ্রেসই বা ছাড়বে কেন ! তারা লিখল:

"সিপিএমের তিনটি গুণ/লুট, দাঙ্গা, মানুষ খুন"।
"দিনের বেলায় কৌটো নাড়ায়/রাত্রে করে ফিস্ট/এরাই আবার মুখে বলে/আমরা কমিউনিস্ট"।

"ডানহাতেতে মদের বোতল/বামহাতেতে গুলি/এরাই আবার মুখে বলে/মার্কসিজমের বুলি"।

"টাটা বিড়লার কোলে/জ্যোতি বসু দোলে"।

এই রকম ভাবে চলতে চলতে, একবার, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের দিন পড়ল জুন মাসের উনিশ তারিখে। কংগ্রেস মজা করে লিখল:

"উনিশে জুন আসছে দিন/জ্যোতি বসুর বিয়ের দিন"।

সিপিএম ও উত্তর দিল:

"লিখেছিস বেশ করেছিস/ইন্দিরাকে সাজিয়ে রাখিস"।

পরিবর্তনশীল এই দুনিয়া। কালের নিয়মে সব উল্টেপাল্টে যায়। আজকের যুগের নির্বাচনী দেওয়াল লিখনে সেই আগের মজা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে 😔🐸

Comments